অতিরিক্ত খাটুনির ফলে মৃত্যু
সস্তা শ্রম
খনির মধ্যে নারী ও দশ বৎসরের কম বয়সের শিশুদের কর্মে নিয়োগ নিষিদ্ধ হবার আগে পুঁজিপতিরা উলঙ্গ নারী ও বালিকাদের খনির মধ্যে প্রায়ই পুরুষের সঙ্গেই কাজে পাঠাত। তাদের নৈতিকতাবোধ ও ব্যবসার স্বার্থ এমনই। এ বিষয়ে আইন পাস হবার পর থেকেই তারা যন্ত্রপাতির ব্যবহার করছে। ইয়াঙ্কিরা এক প্রকার পাথর ভাঙার যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। ইংরেজরা সেটা ব্যবহার করে না। কারণ, ঐ কাজের জন্য নিযুক্ত ‘হতভাগাদের’ (ইংজেরী অর্থশাস্ত্রে চাষী-মজুরদের এই রকমই বলে থাকে) এতই কম পয়সা দিতে হয় যে যন্ত্রের ব্যবহার করলে পুঁজিপতিদের উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাবে। এখনো প্রায়ই দেখা যায় যে ইংল্যান্ডে খালে নৌকা টেনে নিয়ে যাবার জন্য ঘোড়ার বদলে নারীদের নিয়োগ করা হয়। কারণ ঘোড়া পুষতে বা যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে একটা ন্যূনতম খরচ লাগবেই, আর অতিরিক্ত জনসংখ্যার মধ্য থেকে নারীদের ঐ কাজে নিয়োগ করলে যে কত যৎসামান্য খরচে চলে যায় তা ধারণাই করা যায় না। মানুষের দৈহিক শক্তির জায়গায় যন্ত্রপাতি কাজ করতে থাকে। তাই পুঁজিপতিরা যাদের পেশীর শক্তি কম, শারীরিক বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হয়নি, অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো নরম, তাদের কাজে নিয়োগ করতে থাকে। শ্রমিক ও শ্রমশক্তির স্থলে এই শক্তিশালী বিকল্প যন্ত্রপাতি নারী পুরুষ বা শিশু নির্বিশেষে শ্রমিক পরিবারের সকলকেই সোজাসুজি পুঁজির আওতায় টেনে নিয়ে আসে ও শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। শিশুরা আর খেলতে পারে না, নারীরা পারে না স্বাধীনভাবে পরিবারের জন্য গৃহকর্ম করতে, পরিবারের সকলেই তখন পুঁজিপতিদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করতে থাকে।
আগে শ্রমশক্তির মূল্য নির্ধারণের জন্য শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক মজুরকে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সময়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হতো না, তার পরিবার প্রতিপালনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতো। যন্ত্রপাতি পরিবারের প্রত্যেককেই শ্রমের বাজারে নিক্ষেপ করে মানুষের শ্রমশক্তির মূল্য সমগ্র পরিবারের মধ্যে ব্যাপ্ত করে দিয়েছে। কাজেই শ্রমশক্তির মূল্য হ্রাস হয়ে গেছে। পূর্বে চারজনের একটি পরিবারের প্রধানের শ্রমশক্তি জন্য করতে যা খরচ পড়ত তার তুলনায় পরিবারের চারজনেরই শ্রমশক্তি ক্রয় করার খরচ হয়তো বেশি, কিন্তু পরিবর্তে চারদিনের শ্রম একদিনেই পাওয়া যাচ্ছে। আর একজনের উদ্বৃত্ত শ্রমের বদলে চারজনের উদ্বৃত্ত শ্রম যতখানি বাড়ছে, সেই অনুপাতে শ্রমের মূল্য হ্রাস পাচ্ছে। এখন সেই পরিবারটিকে বাঁচতে হলে শুধু যে চারজনকেই খাটতে হবে তাই নয়, তাদের উদ্বৃত্ত শ্রম পুঁজিপতিকে উৎসর্গ করে দিতে হবে। এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে যন্ত্রপাতি দ্বারা পুঁজিপতিরা যেমন অধিক সংখ্যক মানুষদের শোষণ করে তেমনি শোষণের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়।
ক্যাপিটাল প্রথম খণ্ড থেকে নেওয়া
সুত্র – নারী ও নারীমুক্তি
সম্পাদক— হায়দার আকবর খান রনো
নবান্ন প্রকাশনী, ঢাকা
লেখক
কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স (৫ মে, ১৮১৮ – ১৪ মার্চ, ১৮৮৩) ছিলেন একজন জার্মান দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং সমাজবিজ্ঞানী। তিনি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত। মার্ক্সের অন্যতম বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে তিন খণ্ডের "পুঁজি" এবং ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের সাথে যৌথভাবে লেখা "কমিউনিস্ট ইশতেহার"। মার্ক্সের সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে তত্ত্বগুলো মার্ক্সবাদমার্ক্সবাদ ঊনবিংশ শতা... নামে পরিচিত। তাঁর মতে, ই...








