মার্কসবাদের একটি সাধারণ সমালোচনাকান্ত তার আদর্শবাদী দর... হলো, এটি শ্রেণী সংগ্রাম নিয়ে এতো বেশী মনোযোগ দেয় যে জেন্ডারের (Gender) -এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মার্কসবাদী আদর্শে পরিচালিত অনেক সামাজিক/ রাজনৈতিকগোষ্ঠী জেন্ডার ও বর্ণবৈষম্য নিয়ে সবসময় সঠিক কাজগুলো করেনি। অনেকেই এমন মার্কসবাদী পুরুষদের মুখোমুখি হয়েছেন, যারা জেন্ডারবৈষম্য বা বর্ণবৈষম্যের মতো সমস্যাগুলোকে তুচ্ছজ্ঞান করে বলেছেন যে, এসব বিষয় “বিপ্লবের পর” দেখা যাবে। তাদের মতে এখন শ্রেণী সংগ্রামে মনোযোগ দেওয়াই জরুরি।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অতীতে এবং এখনও কোন কোন মার্কসবাদী সংগঠনে পুরুষ সদস্যদের দ্বারা যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। যৌন হয়রানির ঘটনা না ঘটলেও, অনেক সংগঠনের মধ্যে নারীরা অবহেলিত বা গুরুত্বহীন বোধ করেছেন। ১৯৪৭ সালের তেলেঙ্গানা আন্দোলনে যুক্ত নারীদের অভিজ্ঞতা, ব্রিটিশ কমিউনিস্ট কর্মী ডরিস লেসিং বা মার্কিন কমিউনিস্ট পার্টির পেগি ডেনিসের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, তারা যেসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেগুলোতে লৈঙ্গিকবৈষম্য একটি বড় সমস্যা ছিল।
এটি আমাদের জন্য হতাশাজনক। কারণ আমাদের বিশ্বাস ছিলো যে বিপ্লবী মার্কসবাদীরাই লৈঙ্গিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নেবে। আমরা এসব বিপ্লবী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলাম, কারণ মার্কসবাদের তত্ত্ব আমাদের কাছে এমন একটি বিপ্লবী আদর্শ বলে মনে হয়েছিল, যা কেবলমাত্র সংস্কারের জন্য লড়াই করে না, বরং পুঁজিবাদকে পুরোপুরি ধ্বংস করার আহ্বান জানায়। তাই, আমরা ভেবেছিলাম এটি নারীর মুক্তি ও জেন্ডার ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রামের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।
এই কারণেই, যদি সত্যিকারের বিপ্লবী হতে চাইলে এবং কোনো মতবাদকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করলে, মার্কসবাদের ইতিহাসের পরস্পরবিরোধী দুইটি দুই দিককে মুখোমুখি করতে হবে। প্রথমত, মার্কসবাদের নামে লিঙ্গবৈষম্যের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটিকে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয়ত স্বীকার করতে হবে যে, ইতিহাসের ভুলগুলো সত্ত্বেও মার্কসবাদী কাঠামোই পুঁজিবাদের অধীনে নিপীড়নের প্রকৃতি বোঝার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি এবং এই নিপীড়ন শেষ করার পথ খুঁজে বের করার অন্যতম উপায়।
মার্কসবাদী তত্ত্ব
মার্কসের পুঁজিবাদ বিশ্লেষণের মূল অংশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা রয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেননি। ক্যাপিটাল ভলিউম ১ এ তিনি “শ্রমশক্তি” বা কাজ করার ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিশেষ পণ্য। তার মতে, আমাদের শ্রমশক্তি আলাদা, কারণ এটি মূল্য সৃষ্টি করে। আমরা কাজ করে পণ্য তৈরি করি এবং পুঁজিবাদের জন্য মূল্য তৈরি করি। পুঁজিপতিরা আমাদের কাজ থেকে যে অতিরিক্ত মূল্য নেয়, সেটাই তাদের ক্ষমতার উৎস। শ্রমশক্তি ছাড়া, পুরো পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
তবে, মার্কস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেননি: যদি শ্রমশক্তি মূল্য তৈরি করে, তাহলে শ্রমশক্তি নিজেই কীভাবে তৈরি হয়? এমন শ্রমিকরা তো হঠাৎ করেই তৈরি হয় না, যারা তাদের শ্রম পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করবে।
এখানেই পরবর্তীকালের মার্কসবাদী চিন্তাবিদরা, যেমন লিস ভোগেল, মার্থা গিমেনেজ, জোহানা ব্রেনার এবং সাম্প্রতিককালে সুসান ফার্গুসন ও ডেভিড ম্যাকন্যালি, মার্কসের ধারণাকে আরও উন্নত করেছেন। তারা তার ভাবনাগুলোকে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। এটি প্রমাণ করে, মার্কসবাদী তত্ত্ব এখনও শক্তিশালী এবং নতুন চিন্তাবিদরা এটি সমালোচনাকান্ত তার আদর্শবাদী দর... করে ও নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে আরও সমৃদ্ধ করছেন।
মার্কসের ক্যাপিটাল গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে, এই চিন্তাবিদরা যুক্তি দেন যে, পুঁজিবাদী উৎপাদনের মূল উপাদান, আমাদের শ্রমশক্তি, আসলে পুঁজিবাদী উৎপাদনের বাইরেই তৈরি ও পুনরায় উৎপাদন হয়, যা “পরিবার” নামের আত্মীয়তা কেন্দ্রিক এক প্রক্রিয়ায় ঘটে। লিস ভোগেল এ প্রসঙ্গে শ্রেণী সংগ্রাম ও নারীদের ওপর নিপীড়নের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে কাজ অসাধারণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। বলেন,
“যেসব সমাজে শোষণ আছে, সেখানে শ্রেণীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষই সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। শাসক শ্রেণী নিচু শ্রেণী থেকে অতিরিক্ত শ্রম আদায় করে। এই শ্রমিকদের পুনরায় কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা—যারা পণ্য উৎপাদনে কাজ করে—খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শ্রমিকদের বেশিরভাগই পরের প্রজন্ম থেকে আসে, তাই নারীদের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা শ্রেণীব্যবস্থা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
ধনী শ্রেণীতে নারীদের উপর নিপীড়ন আসে সম্পত্তি রক্ষার কারণে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পত্তি সঠিকভাবে হস্তান্তর করা যায়। আর গরিব বা শ্রমিক শ্রেণীতে নারীরা নিপীড়িত হয়, কারণ তারা নতুন/ভবিষ্যত শ্রমিকদের বড় করে তোলে এবং নিজেরাও উৎপাদনে অংশ নেয়।”
লিস ভোগেলের বক্তব্য থেকে শ্রেণী সংগ্রাম ও নারী নিপীড়নের সম্পর্ক স্পষ্ট হয়। এটাই লিস ভোগেল ও অন্যান্য পরবর্তী মার্কসবাদীরা “সামাজিক পুনঃউৎপাদন তত্ত্ব” দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন। যেমন মেগ লাক্সটন এই তত্ত্বের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, পণ্য ও সেবা তৈরি করা এবং মানুষের জীবনের যত্ন নেওয়া একই প্রক্রিয়ার অংশ। যদি আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির মধ্যে পণ্য ও সেবা তৈরি হয়, তাহলে যারা এই কাজ করে তারাও আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির বাইরে বড় হয় এবং লালিত-পালিত হয়। এই যত্ন সাধারণত খুব কম খরচে হয়, যা পুঁজিপতির জন্য সুবিধাজনক। অন্য কথায়, মানুষকে বড় করার এবং যত্ন নেওয়ার কাজ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি নিয়মিত চাকরির মতো স্বীকৃতি পায় না।
শ্রমশক্তি তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনঃউৎপাদিত হয়:
১. শ্রমিকদের পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করে এমন কাজকর্ম, যাতে তারা আবার কাজে ফিরতে পারে। এর মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো এবং মানসিক সুস্থতার জন্য আবেগগত যত্ন অন্তর্ভুক্ত।
২. যারা কাজ করছে না, তাদের যত্ন নেওয়া। এরা হতে পারে শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী বা বেকার—যারা ভবিষ্যতে কাজ করবে বা আগে কাজ করেছে।
৩. নতুন শ্রমিক তৈরি করা, অর্থাৎ সন্তান জন্মদান।
এই কাজগুলো পুঁজিবাদের জন্য অপরিহার্য, কারণ এগুলো শ্রমিকদের প্রস্তুত রাখে, কিন্তু এগুলো পুরুষ ও নারী বিনা পারিশ্রমিকে করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বেশিরভাগ গৃহস্থালি কাজ বিনা পারিশ্রমিকে নারীরাই করে।
একটি ২০১২ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২৫.৯ ঘণ্টা অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজ করেছিল, যেখানে পুরুষরা করেছিল ১৬.৮ ঘণ্টা, অর্থাৎ এর মধ্যে প্রায় নয় ঘণ্টার বেশি পার্থক্য ছিল। এই সমীক্ষায় শিশুদের যত্ন, রান্না, বাজার করা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার, ছোটখাট কাজ, বাগান করা ইত্যাদি কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে শিশুদের যত্ন, রান্না, কেনাকাটা, বাড়ির কাজ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী, যদি এই অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজগুলো জিডিপি (GDP) মাপার ক্ষেত্রে যোগ করা হতো, তাহলে ২০১০ সালে এটি ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেত। তবে, এর পাশাপাশি আরও কিছু অতিরিক্ত কাজও আছে যা তালিকাভুক্ত হয় না, যেমন পরিবারের কর্মজীবী এবং বেকার সদস্যদের মানসিক সহায়তা দেওয়া। যারা নিজ কর্মস্থলে কঠিন একটি দিনের পর ছোট্ট একটি শিশুকে শান্ত করেছে, অথবা ক্লান্তিকর কাজের পর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা করার চিন্তা করেছে, তারা জানে যে এই ধরনের অদৃশ্য কাজগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ
সামাজিক পুনরুৎপাদন তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো পুঁজিবাদ একটি একক ব্যবস্থা যেখানে পরিবারের মানুষের যত্ন (পুনঃউৎপাদন) এবং কারখানায় পণ্য ও সেবা তৈরির (উৎপাদন) মতো দুই ধরণের কাজকে সফল তবে অসমভাবে, একত্রিত করতে পারে। তবে, এই দুটি প্রক্রিয়া সমানভাবে পরিচালিত হয় না। এক অংশে পরিবর্তন ঘটলে অন্য অংশও প্রভাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কর্মস্থলে যদি মজুরি কমিয়ে দেওয়া হয় বা খরচ কমানোর মতো নীতি গ্রহণ করা হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু সেই কাজের জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে কর্মীদের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যার কারণে তাদের হয়তো বাড়ি হারানোর (বাজেয়াপ্ত) মতো সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এছাড়া, আর্থিক চাপে বা মানসিক দুর্বলতায় ঘরে ঝগড়া বা সহিংসতার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এক কথায়, কর্মক্ষেত্রে যেকোনো সমস্যার প্রভাব ঘর-পরিবারেও এসে পড়ে।
এই তত্ত্বটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আমাদের প্রকৃত ইতিহাসের আলোকে বোঝার সুযোগ দেয়। প্রথমত, শ্রমিক কারা, দ্বিতীয়ত, শ্রমিকরা কিভাবে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই তত্ত্বটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, নারী অধিকার নিয়ে আমরা অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে বা এর বাইরে যতই অগ্রগতি অর্জন করি না কেন, তা কেবল সাময়িকই হতে পারে। কারণ নারীদের উপর নির্যাতনের মূল কারণ পুরো ব্যবস্থাটির ভেতরেই লুকানো আছে। তাই নিপীড়ন বন্ধ করার এবং মুক্তির বিষয়ে কথা বলতে গেলে, আমাদের একসঙ্গে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসানের কথাও ভাবতে হবে।
উৎপাদন ক্ষেত্রের গুরুত্ব
যদি নারীরা কর্মক্ষেত্রের বাইরে বিনা পারিশ্রমিকের শ্রমের মাধ্যমে পুঁজিবাদকে সমর্থন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে কি কর্মক্ষেত্রের সমস্যাগুলো শুধুমাত্র পুরুষদের সমস্যা? যারা এখনও সাধারণ শ্রমিককে ঊনবিংশ শতাব্দীর ডুঙ্গারি পরা, রেঞ্চ হাতে একজন সাদা পুরুষ হিসেবে কল্পনা করে, তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের প্রকৃত চিত্রের দিকে তাকানো। যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ নারী জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করতে বাধ্য হয়, যার মানে তারাও পুরুষদের মতো শ্রম বিক্রি করে। বর্তমানে কর্মশক্তির প্রায় অর্ধেক—৪৭ শতাংশ—নারী। বিবাহিত মায়েদের মধ্যে কাজ করার হারও বেড়েছে, ১৯৬৮ সালে যেখানে ছিল ৩৭ শতাংশ, ২০১১ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৬৫ শতাংশে। ২০১৩ সালের পিউ রিসার্চ জরিপ অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ মার্কিন মায়েরা তাদের পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী, যেখানে ১৯৬০ সালে এটি ছিল মাত্র ১১ শতাংশ।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিয়ন সদস্যপদ মোটামুটি কম, তবুও নারীরা পুরুষদের তুলনায় ইউনিয়নে যোগদানের ক্ষেত্রে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। ২০১২ সালে, পুরুষদের মধ্যে ইউনিয়ন সদস্যপদ ছিল ১২ শতাংশের, আর নারীদের ছিল ১০.৫ শতাংশ। একই ডেটা দেখায়, কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের সাদা, এশীয় বা লাতিনো শ্রমিকদের তুলনায় ইউনিয়ন সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এটি প্রমাণ করে, নারীদের সমস্যা শুধু ঘরকেন্দ্রিক নয়। যৌন সহিংসতা, প্রজনন স্বাস্থ্য বা শিশুদের যত্নের পাশাপাশি মজুরি, কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতি, শ্রম সংগঠন এবং সুবিধার জন্য লড়াই করার বিষয়গুলোও জেন্ডারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
তবে নারীদের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে, বেশিরভাগ নারী কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করছে। অন্যদিকে, শাসক শ্রেণীর একটি ছোট, ধনী, বহু-জাতিগত নারীদের গোষ্ঠী খুব ভালো করছে। নিম্ন মজুরির ১০টি বৃহত্তম চাকরির প্রায় তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি কর্মী নারী, এবং এদের এক-তৃতীয়াংশই বিভিন্ন বর্ণের নারী। আমি আগেও বলেছি, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের চারটি দেশের মধ্যে একটি, যেখানে মাতৃত্বকালীন বেতন ছুটি নেই। ফলে কর্মজীবী মায়েদের জন্য কাজ ও মাতৃত্ব সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তার ওপর, যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ কর্মীর বেতনের অসুস্থতাজনিত ছুটি নেই এবং মাত্র ৪২ শতাংশের ব্যক্তিগত ছুটি রয়েছে।
ইউনিয়নের কর্মীরা যথার্থভাবেই প্রশ্ন তোলে: “যদি কোনো ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘটে, তখন কাজ করতে না পারার খরচ কিভাবে মেটানো হবে? অসুস্থ শিশুর যত্ন কে নেবে? আর বাড়িতে কে থাকবে, রান্না করবে বা পড়াশোনায় সাহায্য করবে? বৃদ্ধ পিতামাতার যত্ন নেওয়ার সময় কোথায় পাওয়া যাবে?” কীভাবে নারীরা বাড়ির বিনা পারিশ্রমিকের কাজ ও পূর্ণকালীন চাকরি সামলাবে? আসলে, তারা পারে না।
১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ শতাংশ নারী শ্রমবাজারে ছিল, যা ২২টি উন্নত দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে ছিল। কিন্তু নব্য উদারতাবাদী নীতির ফলে এই হার মাত্র ৭৫.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশে এটি প্রায় ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অনেক নারী বাধ্য হয়ে খণ্ডকালীন কাজ করে, কারণ গৃহস্থালির দায়িত্বে তাদের সহায়তার অভাব আছে। মাত্র ৯ শতাংশ কর্মজীবী মা সপ্তাহে ৫০ ঘণ্টার বেশি কাজ করে। একবার কল্পনা করুন, যদি মায়েরা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা কাজ করত, তাহলে সকাল ৮:৩০-এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত ৮:৩০-এ বাড়ি ফিরতে হতো! যত প্রযুক্তির উন্নতি হোক না কেন, শিশুদের স্কুল থেকে নিয়ে আসা এবং বাস্তব কোনো মানুষের হাতে খাওয়ানো দরকার। বৃদ্ধ পিতামাতারও মানবিক সেবার প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে এই সেবা সাধারণত একজন নারীই দেন।
এ থেকে বোঝা যায়, কর্মক্ষেত্রের সমস্যাগুলো নারীদের এবং জেন্ডারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কর্মক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণকারী নীতিগুলো নারীদের কাজ এবং পরিবার উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। তবে আমাদের লড়াইটা কী নিয়ে হওয়া উচিত? আমাদের কি পুরুষদের সমান মজুরির জন্য লড়াই করা উচিত, যদিও এটি একটি নিম্ন মজুরির অর্থনীতি? আমাদের কি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য লড়াই করা উচিত, যাতে নারীদের যত্নের দায় কমে? আমাদের কি “নারী” হিসেবে লড়াই করা উচিত, নাকি “শ্রমিক” হিসেবে?
সম্প্রতি কিছু সাহসী নারী মিডিয়ায় উঠে এসেছে, যারা নারীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলছেন। জোয়ান সি. উইলিয়ামস একজন মেধাবী সমাজবিজ্ঞানী, যার শ্রেণী ও জেন্ডার নিয়ে কাজ পড়ার মতো। তবে তিনি সম্প্রতি বলেছেন, “এক্সিকিউটিভ নারীবাদ” লৈঙ্গিক অধিকারের আন্দোলনকে পুনরায় শুরু করতে পারে। এখানে “এক্সিকিউটিভ নারীবাদ” বলতে তিনি বড় বড় কোম্পানির শীর্ষপদে থাকা নারীদের বোঝাচ্ছেন।
অনেকেই হয়তো খুশি হবেন কিছু নারীকে বোর্ডরুমে দেখতে পেয়ে, যা আগে পুরুষদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু এর ফলে প্রশ্ন উঠে, জেন্ডার অধিকার কি শ্রেণী সমস্যা থেকে আলাদা করে দেখা যায়? এই নারী সিইওরা কি সব নারীর জন্য কাজ করবেন? বাস্তবে বেশিরভাগ নারীর সাহায্যের জন্য সবচেয়ে ভালো নীতিগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেসব নীতির প্রায় সবই পুঁজিবাদের মুনাফা কমিয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, সর্বজনীন বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে যে সবাই, চাকরি থাকুক বা না থাকুক, বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবে। এটি নারীদের পরিবারকে সাহায্য করবে এবং তার সন্তান ধারণের সিদ্ধান্তে নিয়ন্ত্রণ দেবে। তবে স্বাস্থ্যসেবা শিল্প একটি বড় ব্যবসা, যা এই ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করবে। তেমনি, বেশী মজুরি নারীদের জন্য কল্যাণকর হলেও এটি পুঁজিবাদের মুনাফার সঙ্গে সংঘর্ষে আসে।
আদতে সিইও শেরিল স্যান্ডবার্গের মতো নারীরা তাদের শ্রেণীর জন্য লড়াই করছে, নারীবাদী ভাষা ব্যবহার করে সেই ব্যবস্থাকে সমর্থন করছে, যা শুধু ধনীদের উপকার করে। এমনকি স্যান্ডবার্গের বিরুদ্ধে ইন্টার্নদের পারিশ্রমিক না দেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো, এবং এক পর্যায় তাকে চাপ প্রয়োগ করে পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য করানোর প্রয়োজন পড়েছিল।
এটা নিশ্চিত যে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা একটি মূল্যবান অধিকার, যা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়েছে। তাই প্রাথমিক মার্কসবাদীরা নারীদের উৎপাদন ক্ষেত্রে পরিশ্রমের মাধ্যমে মুক্তি আনার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
কিন্তু স্যান্ডবার্গের মতো কেউ, যিনি বস হিসেবে নিজের ভূমিকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, শ্রমিক মা সেই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। কর্মজীবী মায়ের কাজ হয়তো তাকে কিছু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেয়, কিন্তু এটি তাকে বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করে তোলে। যখন স্যান্ডবার্গ বলেন, নারীদের সফল হতে হলে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, তিনি মূলত তার শ্রেণীর নারীদের কথাই বলছেন।
এই প্রসঙ্গে কারেন নুসবাম যুক্তি দেন, এই ব্যবস্থা শীর্ষস্থানীয় কিছু জায়গায় কিছু নারীর জন্য সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে গভীর পরিবর্তনগুলো প্রতিহত করা যায়। “কর্মজীবী নারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামলাতে নিয়োগকর্তারা কিছু নারীর জন্য সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু সব নারীর কাজের উন্নতি হয়নি। ব্যবস্থাপনা বা পেশাদার ভূমিকার নারীদের অংশগ্রহণ ১৯৭০ সালে ১৯ শতাংশ থেকে ২০০৪ সালে ৩৮ শতাংশ হয়েছে।”
আমাদের সমাজে জেন্ডার সংগ্রাম এবং শ্রেণী সংগ্রামের মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা কর্মক্ষেত্রে জেন্ডারের ভূমিকার বড় পরিবর্তন রোধ করার চেষ্টা করে, কারণ এর প্রকৃত পরিবর্তন মুনাফার ক্ষতি করবে।
পুনঃউৎপাদনের ক্ষেত্রের গুরুত্ব
শ্রমিক ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে যা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক, যখন শ্রমিক ইউনিয়নগুলো গর্ভপাতের অধিকার, সমান মজুরি এবং সমকামবিরোধিতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তাই কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের জন্য লড়াই করার সবচেয়ে যৌক্তিক ও সেরা উপায় হলো আমাদের শ্রমিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে লড়াই করা।
কিন্তু শ্রমিকরা শুধু কর্মক্ষেত্রে কাজ করে না। একজন নারী শ্রমিক বাড়িতে বিশ্রাম নেন, তার সন্তানরা পার্কে খেলে এবং স্কুলে পড়ে, কখনও কখনও রান্নার কাজে তার অবসরপ্রাপ্ত মায়ের সাহায্য নেন। অর্থাৎ, শ্রমিক শ্রেণীর বড় অংশের লালন-পালনের কাজগুলো কর্মক্ষেত্রের বাইরে হয়।
এটা সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝে কে? পুঁজিবাদ। এ কারণেই পুঁজিবাদ এই সামাজিক পুনঃউৎপাদন প্রক্রিয়াগুলোকে আক্রমণ করে কর্মক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য। তারা রাষ্ট্রীয় সুবিধাসমূহকে কাটছাঁট করে, যত্নের দায়িত্ব পরিবারগুলোর ওপর ঠেলে দেয় এবং সামাজিক সেবাকে অগ্রাহ্য করে, ফলে পুরো শ্রমিক শ্রেণী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কর্মক্ষেত্রে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি হারায়।
এটা আর কে বোঝে? বিপ্লবী মার্কসবাদীরা। এ কারণেই আমরা “পুনঃউৎপাদনের ক্ষেত্র”—যেখানে স্কুল বন্ধ হচ্ছে, নারীরা বাড়িতে সহিংসতার শিকার হচ্ছে—এগুলোর সঙ্গে “উৎপাদনের ক্ষেত্র”কে যুক্ত করি, যেখানে আমরা ভালো মজুরি ও সুবিধার জন্য লড়াই করি।
আমরা এটি দুইভাবে করি। আমরা (ক) মার্কসবাদী তত্ত্ব ব্যবহার করে দেখাই যে এই দুটি ক্ষেত্র আসলে একই ব্যবস্থার অংশ, এবং (খ) আমরা নিপীড়িতদের জন্য চ্যাম্পিয়নের ভূমিকা পালন করি, বিশেষ করে যেখানে লড়াই এখনো কর্মক্ষেত্রে পৌঁছায়নি। এটি ঠিক যে, শ্রমিক শ্রেণী পুনঃউৎপাদনের ক্ষেত্রেও লড়াই করতে পারে, তবে কেবল কর্মক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থাকে পরাজিত করা সম্ভব।
শ্রমিক শ্রেণীর ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম কর্মক্ষেত্রের বাইরে শুরু হয়েছে। আধুনিক বিশ্বের দুটি বড় বিপ্লব—ফরাসি ও রাশিয়ান বিপ্লব—নারীদের নেতৃত্বে রুটির দাঙ্গা দিয়ে শুরু হয়েছিল।
পুঁজিবাদকে একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে বোঝা, যা উৎপাদনের সঙ্গে সামাজিক পুনঃউৎপাদনকে যুক্ত করে, আমাদের উভয় ক্ষেত্রের রাজনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্ব বোঝায় এবং এগুলোকে একসঙ্গে করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আসুন প্রজনন অধিকারের একটি উদাহরণ বিবেচনা করি, যা আজকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই এবং সরাসরি কর্মক্ষেত্রের সমস্যা নয়। প্রজনন অধিকার কি শুধু গর্ভপাত ও জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রবেশাধিকারকে বোঝায়?
আসল ব্যাপার হলো, প্রজনন অধিকারকে প্রজনন ন্যায়বিচার বলা উচিত। একজন নারীর পছন্দের অধিকার কেবল সন্তান না নেওয়ার নয়, সন্তান নেওয়ার অধিকারও।
যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকান নারী এবং অন্যান্য বর্ণের নারীদের ইতিহাসে জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের নজির রয়েছে। ১৯৬০-এর দশকে, কিছু রাজ্য, যেমন ইলিনয়, আইওয়া, ওহাইও, ভার্জিনিয়া এবং টেনেসিতে, দারিদ্র্যসীমার নিচে(১৯২৮-১৯৬৭) আর্জেন্টিন... থাকা কালো মায়েদের সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রমের নাম করে জোর করে বন্ধ্যা করার চিন্তা করেছিল। যখন নরপ্ল্যান্ট নামে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চালু হয়, ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার পত্রিকায় এটিকে কালো দারিদ্র্য দূর করার সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। পুয়ের্তো রিকোর নারীরাও একই রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৩০ এবং ১৯৪০-এর দশকে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কারখানা পুয়ের্তো রিকোতে নারী শ্রমিকদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ক্লিনিক চালাত, এবং কিছু কারখানা বন্ধ্যা না হলে নারীদের কাজ দিতে অস্বীকৃতি জানাতো।
এছাড়াও, প্রজনন পছন্দ শুধু শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ নয়। এটি আমাদের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণও—কখন সন্তান নেব, কটি নেব, তাদের যত্ন নেওয়ার সময় থাকবে কিনা, তারা পাবলিক স্কুলে পড়বে কিনা, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এসব করার জন্য একটি ন্যায্য মজুরি পাব কিনা।
এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রজনন হার ৯ শতাংশ কমেছে, এবং জনসংখ্যাবিদরা মনে করেন যে, এই হার মন্দার সময় কমেছে, যখন মানুষ তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিল। অন্য কথায়, টাইমস এখন বুঝতে পেরেছে যে বেশিরভাগ নারী তখনই সন্তান নিতে চান, যখন তারা তাদের সমর্থন ও লালন-পালনের জন্য আর্থিকভাবে প্রস্তুত থাকেন।
তাহলে, পুনঃউৎপাদনের প্রশ্নটি আমাদের সমাজের সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত: কে কাজ করবে, কার জন্য, এবং কতক্ষণ ধরে।
পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত লড়াইয়ের জন্য
এই নব্য উদারবাদী সংকটের সময়ে, পুঁজিবাদ জেন্ডারকে শ্রেণী সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের বারবার ধর্ষণকাণ্ড, প্রজনন অধিকারের ওপর কঠোর আক্রমণ এবং ট্রান্সফোবিয়ার উত্থান—এর সবই পুঁজিবাদের সেই কৌশলের অংশ, যেখানে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ও ঘর উভয় জায়গায় চূড়ান্ত শোষণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা হয়।
মার্কসবাদী বিপ্লবী হিসেবে আমাদের সমাধান শুধুমাত্র শ্রেণী সংগ্রামের কথা বলায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রের লড়াইগুলোকে একত্রিত করা। নিপীড়িত গোষ্ঠীগুলোর সাথে “যুক্তিতে জেতা” আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য নয়। বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঘরে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের আস্থা অর্জন করা, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে দৃঢ়ভাবে নেতৃত্ব দেওয়া।
এই কারণেই, যেসব সংগঠনে আমরা ভালো মজুরির জন্য লড়াই করছি (যেমন শ্রমিক ইউনিয়ন), সেখানে আমাদের পুনঃউৎপাদনের ন্যায়বিচারের বিষয়টিও উত্থাপন করতে হবে। একইভাবে, যেসব সংগঠনে আমরা জেন্ডারবৈষম্য এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, সেখানে মজুরির বিষয়েও কথা বলতে হবে। তাই আমাদের এমন একটি সাহসী নারী ও পুরুষ প্রজন্ম দরকার, যারা এই লড়াইটি পৌঁছে দিবে প্রতিটি কর্মক্ষেত্র, ক্যাম্পাস এবং রাজপথে। এটাই প্রকৃত বিপ্লবী মার্কসবাদী ঐতিহ্য।
অনুবাদ করেছেনঃ খায়রুল হাসান। মূল লেখাটি সোশ্যালিস্টওয়ার্কারডটনেট -এ পাওয়া যাবে।
লেখকবৃন্দ
তিথি ভট্টাচার্য হলেন পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি একজন বিশিষ্ট মার্কসবাদী নারীবাদী এবং ২০১৭ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী ধর্মঘটের জাতীয় সংগঠকদের একজন। তিথি ভট্টাচার্য ফিলিস্তিনি অধিকার এবং বয়কট, বিভক্তি এবং নিষেধাজ্ঞা এর একজন সোচ্চার প্রবক্তা ছিলেন। তিনি "৯৯%-এর জন্য নারীবাদ: একটি ইশতেহার" বইয়ের লেখক ছিলেন, যা নারীবাদকে বর্ণবাদ বিরোধী এবং পুঁজিবাদ...
খায়রুল হাসান জাহিন ক্রিমসন থিওরির উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থায় তরুণ গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তার আগ্রহের বিষয় স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফর্মেশন, ইকোলজিক্যাল ইকোনমিক্স।








