পুরোনো দিল্লীর দারিয়াগঞ্জ। প্রায় পনেরো মিনিট হলো ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে আছি। ঢাকা, দিল্লী কিংবা উপমহাদেশের যেকোনো ব্যস্ত নগরীতে এহেন ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকলে পৃথিবী জুড়ে চলতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশের রাজনীতিতে ইঁদুর-বেড়াল খেলা, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচ, পরিবেশগত সংকট নিয়ে নানা ভাবনা আপনার নিউরণের অণুরণনের কারণ হয়ে ওঠাটাই খুব স্বাভাবিক। সত্যি বলতে, অন্তত আমার ‘ভেরি মাচ বেঙ্গলি’ মনস্তত্বে এই ধরণের রাষ্ট্র-সমাজ সংক্রান্ত চিন্তা (দুশ্চিন্তা) না আসাটাই অস্বাভাবিক। কিন্তু সিগন্যাল ছাড়ার সাথে সাথে যতটা দ্রুত আমাদের অটোরিকশা ছুটছে তার চাইতেও বেশী দ্রুত হারিয়ে যায় আমাদের সমাজভাবনা। নতুন করে সিগন্যালে আটকে যাওয়ার আগ পর্যন্ত উড়াল সড়ক, বিলবোর্ড, বিজ্ঞাপন, সড়কদ্বীপ, আর শপিং মলের চাকচিক্যে আমাদের এই সমাজভাবনাকে আর এগোতে পারেনা। আমাদের মুগ্ধ চোখ সাধারণত উড়াল সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো ব্যাপারগুলোর মধ্যে আমাদের নাগরিক জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করে। ঠিক তেমনই অর্থনীতি বইয়ের পাতায় ঢুকলে একটি বিশেষ শব্দ “প্রবৃদ্ধি”র মাঝেই আমরা নাগরিকজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো যেমন কর্মসংস্থান, সমতা, পরিবেশগত সংকটের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু এই সমস্যাগুলোর মূলে ঢুকলে দেখা যায় প্রবৃদ্ধির মতো প্রচলিত ধারণাগুলো উড়ালসড়কের মতোই সাময়িকভাবে আমাদের মুগ্ধতা তৈরি করে কিন্তু পরবর্তী সিগন্যালের ট্রাফিক জ্যাম থেকে খুব একটা উদ্ধার করতে পারেনা। মার্ক্সীয় পাঠ সবসময়ই সমাজ-অর্থনীতির এই সমস্যাগুলোর মূল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। জাপানী মার্ক্সবাদী লেখক কোহেই সেইতো’র ‘মার্ক্স
কার্ল মার্কসের জন্ম হয... ইন এনথ্রোপসিন’ বইটি মূলত পরিবেশগত সংকটের নানা দিকের মূলে পৌঁছাতে মার্ক্সীয় পাঠের প্রাসঙ্গিকতাকে নতুন করে তুলে ধরেছে ডিগ্রোথ কমিউনিজম নামের অসাধারণ ধারণার সঙ্গে। সেইতো মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অন্তহীন পুঁজিবাদী প্রবৃদ্ধি বা ক্যাপিটালিস্ট গ্রোথের আত্মবিরোধী চরিত্রকে ব্যাখ্যা করেছেন এবং টেকসই প্রাকৃতিক-সামাজিক পরিবেশ গঠনে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্ব পুনঃব্যাখ্যা করেছেন। কমিউনিজম সম্পর্কে আমাদের যে প্রচলিত ধারণা যে ব্যাপক শিল্পায়নের কথা বলে, সেখানে সেইতোর ডিগ্রোথ কমিউনিজম প্রকৃতির সাথে উৎপাদনের দারুণ এক সমন্বয়ের কথা বলে। “মার্ক্স
কার্ল মার্কসের জন্ম হয... ইন এনথ্রোপসিন” পড়ার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা থেকেই ডিগ্রোথ কমিউনিজম ও কোহেই সাইতোর সাথে পাঠকদের পরিচিত করার প্রয়াস থেকেই এই লেখা।
এনথ্রোপসিন মূলত একটি ভূতাত্ত্বিক যুগ। যার অর্থ মানুষের(এন্থ্রো) কালে(সিন) বা মানুষের সময়ে। সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রকৃতির নানা পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর (Adaptation) মধ্য দিয়েই মানবসভ্যতা এগিয়ে গেছে। কিন্তু একটা সময়ে এসে প্রতিবেশের ওপর মানুষের একক আধিপত্য তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষের নানা কর্মকান্ডের প্রভাবে প্রতিবেশ প্রভাবিত হওয়া শুরু করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিবেশের ওপর মানুষের আধিপত্য বিরূপ প্রভাব ফেলছে। মানুষের এই বিপুল আধিপত্যের এই যুগটিই এন্থ্রোপসিন নামে পরিচিত। এনথ্রোপসিনে পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার বিধ্বংসীতা মানবজাতির সামনে যে বিপর্যয় ডেকে এনেছে, তার মোকাবেলায় মার্ক্সবাদী পাঠের প্রাসঙ্গিকতাই এই বইটির মূল আলোচনা। জাপানী তরুণদের মাঝে কোহেই সাইতোর এই বইটির ব্যাপক জনপ্রিয়তাও এনথ্রোপসিনে মার্ক্স
কার্ল মার্কসের জন্ম হয... ও মার্ক্সবাদী আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতাকে ইঙ্গিত করে।
অধিকাংশক্ষেত্রে দেখা যায়, উৎপাদনের পরিবেশবান্ধব উপায়গুলো অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যয় সাপেক্ষ। এতো অধিক উৎপাদন ব্যয়বহন করে টেকসই উৎপাদন কেবলমাত্র উচ্চবিত্ত শ্রেণীর সাধ্যের মধ্যেই থেকে যায়। গ্লোবাল সাউথে এ সমস্ত উচ্চ প্রযুক্তিও সহজলভ্য নয়, তাই ভরসা করতে হয় পরিবেশবিধ্বংসী উৎপাদন পদ্ধতির ওপরেই। অন্যদিকে, গ্রিনট্যাক্সের মতো কথিত পরিবেশবাদী উদ্যোগগুলোর প্রকৃত ভারবহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথকে। ডিগ্রোথ একটি সরল কিন্তু অন্তহীন পুঁজিবাদী প্রবৃদ্ধির ধারণার বিপরীতে একটি শক্তিশালী ধারণা।
মার্ক্সের ভাষায়, পুঁজিবাদ সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যে পরস্পর নির্ভরশীল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিচ্যুতি (মেটাবলিক রিফট) ঘটায়। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা কি করে প্রাণ-প্রকৃতি ও প্রতিবেশ ধ্বংসের কারণ হয়ে ওঠেছে তার ওপর ভিত্তি করে মার্ক্সের মেটাবলিক রিফটের ধারণাটি বিশ্লেষণ করেছেন সেইতো। পুঁজির বিকাশ পরিবেশকে সংকটাপন্ন তো করেছেই, অন্যদিকে পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় পুঁজিবাদের ব্যর্থতাও খুব স্পষ্ট। পরিবেশগত সংকট মোকাবেলার পুঁজিবাদী কৌশলগুলো দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে না। অন্যদিকে পুঁজির সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র থাকার কারণে দেখা যায়, পরিবশগত সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়ে যায় গ্লোবাল সাউথ বা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশের মানুষেরা। তাই ডিগ্রোথ কমিউনিজম প্রসঙ্গে আলোচনা করার আগে, পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তথাকথিত ব্যবস্থাপত্র ও তার ব্যর্থতায় একটু নজর দেয়া যাক। মোটাদাগে বলতে গেলে পুঁজিবাদী পরিবেশবাদীরা প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার, প্রাইজ মেকানিজমের মাধ্যমে পরিবেশগত সংকট মোকাবেলা করতে চায়। পুঁজিবাদীদের এই ব্যবস্থাপত্র আসলে পরিবেশগত সংকট তৈরির পেছনে পুঁজিবাদ ও আধিপত্যবাদী দেশগুলোর দায় এড়ানোর একটি কৌশলমাত্র। অধিকাংশক্ষেত্রে দেখা যায়, উৎপাদনের পরিবেশবান্ধব উপায়গুলো অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যয় সাপেক্ষ। এতো অধিক উৎপাদন ব্যয়বহন করে টেকসই উৎপাদন কেবলমাত্র উচ্চবিত্ত শ্রেণীর সাধ্যের মধ্যেই থেকে যায়। গ্লোবাল সাউথে এ সমস্ত উচ্চ প্রযুক্তিও সহজলভ্য নয়, তাই ভরসা করতে হয় পরিবেশবিধ্বংসী উৎপাদন পদ্ধতির ওপরেই। অন্যদিকে, গ্রিনট্যাক্সের মতো কথিত পরিবেশবাদী উদ্যোগগুলোর প্রকৃত ভারবহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথকে। ডিগ্রোথ একটি সরল কিন্তু অন্তহীন পুঁজিবাদী প্রবৃদ্ধির ধারণার বিপরীতে একটি শক্তিশালী ধারণা। ডিগ্রোথ কমিউনিজম বলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করে এমন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হ্রাস করতে। ডিগ্রোথ আমাদের অনিয়ন্ত্রিত, কিছুক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর লক্ষে অন্তত প্রবৃদ্ধির বদলে সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে ভাবায় ও সামাজিক সমতা, সমাজ ও পরিবেশের কল্যাণ ও টেকসই জীবনযাত্রার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে।
বর্তমান পুঁজিবাদী মডেল প্রাণ-প্রকৃতি পরিবেশের ক্ষতি করে নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (growth) উপর জোর দেয়। ডিগ্রোথ কমিউনিজম এখানে একটি মৌলিক পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়, যেখানে অর্থনীতি কর্পোরেশনের পরিবর্তে জনগণের সেবা করে। প্রত্যেকের মৌলিক চাহিদা যেমন আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা পূরণ করা নিশ্চিত করতে সম্পদ ও সম্পদের পুনর্বন্টন ডিগ্রোথ কমিউনিজমের একটি প্রধান প্রস্তাবনা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মনোযোগ না দিয়ে সামাজিক ও পরিবেশগত কল্যাণ ও শুভবোধের ওপর অগ্রাধিকার প্রদান করার মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদের আওতাধীন ব্যাপক উৎপাদন ও ভোগবাদী ব্যবস্থার দুষ্ট ও অসীম চক্র বন্ধের ইশতেহারের নাম ডিগ্রোথ কমিউনিজম।
ডিগ্রোথ কমিউনিজমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো টেকসই পরিবেশ ও সমাজ তৈরির প্রতিশ্রুতি। বর্তমান পৃথিবীর একটি প্রধান সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এরই মধ্যে স্পষ্ট। পুঁজিবাদী মডেলের উৎপাদন ব্যবস্থা ও নিরবিচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। সাইতোর মতে, জাতিসংঘের এমডিজি বা এসডিজি মতো উদ্যোগগুলো ব্যাপক উৎপাদন ও ভোগবাদী ব্যবস্থার অসীমচক্র বন্ধ করতে সক্ষম নয়।
নিরবিচ্ছিন্ন প্রবৃদ্ধির পেছনে কাজ করে আমাদের উচ্চমাত্রার ও লাগামছাড়া ভোগপ্রবণতা, উৎপাদনের ব্যাপকতা। ডিগ্রোথ এই ধরণের ভোগবাদী প্রবৃত্তির লাগাম টানতে চায়, এবং উৎপাদন ব্যবস্থার স্থানীয়করণ (লোকালাইজেশন), সম্পদের সীমিত ব্যবহারের মাধ্যমে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পরিমাণ উৎপাদন (রিসোর্স-এফিসিয়েন্ট) পদ্ধতি চালুর কথা বলে। এই ধরণের পদ্ধতি চালু করা গেলে ব্যাপক উৎপাদনের চাপে নাকাল প্রাণ-পরিবেশে স্বস্তি ফিরবে, আর মানুষের সাথে প্রাণ-প্রকৃতির সহাবস্থানকে আরো সাবলীল করে তুলবে।
ডিগ্রোথ কমিউনিজমের অন্যতম লক্ষ্য সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের পরিমাণ কমানো। একটি সরল ব্যাপার এখানে বুঝতে পারা খুব জরুরী যে, আমাদের অর্থনীতিতে থাকা নানা সংকটের পেছনে যতটা না উৎপাদনের ঘাটতি দায়ী, তার চাইতে বেশী উৎপাদনের পদ্ধতি (ফ্যাক্টর অব প্রোডাকশন) গুটিকয়েক মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ থাকা। কখনো কখনো, প্রয়োজনের চাইতেও অনেক বেশী পরিমাণ উৎপাদন করা হয়। এ সকল অতিরিক্ত উৎপাদনকে বাজারে বিক্রি করার জন্য কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সমস্থ অতিরিক্ত উৎপাদন সমাজের অর্থশালী ব্যক্তিদের লাগামহীন ভোগের উপাদান হয়। এ সমস্ত ভোগবাদী প্রবণতা, পরিবেশগত ক্ষতির অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, জীবন ধারনের জন্য জরুরী যে সমস্ত উৎপাদন প্রয়োজন হয়, সে সকল ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, গরিব-মেহনতি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলা হয়। আরো বেশী উৎপাদনের মাধ্যমে তাই সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যকে কমানো যাবে না। বরং, উৎপাদনের সুষম বন্টন জরুরী। ডিগ্রোথ কমিউনিজম একটি ন্যায্য এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করার লক্ষ্য রাখে যেখানে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের সুবিধাগুলি সমানভাবে ভাগ করা হয়। এই পদ্ধতি লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে পারে এবং সকলের জন্য আরও নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন প্রদান করতে পারে। ডিগ্রোথ কমিউনিজম উৎপাদনকে স্থানীয়করণ(লোকালাইজড) করতে চায়। এতে ছোট ছোট গ্রাম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, খাদ্য নিরাপত্তা তৈরি হয় এবং সাথে পরিবহনের মতো অতিরিক্ত খরচকে কমিয়ে দেয়। এতে করে পরিবেশেরও কম ক্ষতি হয়।
আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বসবাস করি যেখানে বস্তুগত নানা চাহিদা, আমাদের সুখের চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডিগ্রোথ কমিউনিজমের এই ভোগবাদী, প্রতিযোগীতা নির্ভর পৃথিবী থেকে বের হয় একটি সরল ও সুখী জীবনযাত্রার ধারণা দেয়। ডিগ্রোথ কমিউনিজম টেকসই, ন্যায়সঙ্গত এবং সহানুভূতিশীল ভবিষ্যতের জন্য একটি সাহসী ভাবনা। পৃথিবীর সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভর করে সীমহীন প্রবৃদ্ধির চেষ্টা প্রাণ-প্রকৃতির যে ক্ষতি করছে তার লাগাম টানতে চায় ডিগ্রোথ কমিউনিজম। ভোগবাদী সমাজ, প্রবৃদ্ধি নির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে মানুষের মঙ্গল এবং আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণের দিকে আমাদের দৃষ্টি স্থানান্তর করতে হবে। যাতে আমরা এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করার আশা করতে পারি যা আরও ন্যায়সঙ্গত, সমৃদ্ধ এবং ভারসাম্যপূর্ণ। প্রতিপন্ন পরিবেশের এই সময়টিই তাই ডিগ্রোথ কমিউনিজমের ধারণাগুলিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
লেখক
খায়রুল হাসান জাহিন ক্রিমসন থিওরির উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থায় তরুণ গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তার আগ্রহের বিষয় স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফর্মেশন, ইকোলজিক্যাল ইকোনমিক্স।










