দ্য পলিটিক্স অব মাইক্রোইকনোমিক্স

নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতি ‘উৎপাদনের উপকরণ’ ধারণার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমন্বিত সমাজের ছবি আঁকে যেখানে ঋণদাতা, ভাড়াটিয়া, উদ্যোক্তা, মজুর শ্রমিক, বেতনভুক্ত কর্মচারী ইত্যাদি সবাই থাকে। নিওক্ল্যাসিক্যাল অর্থনীতি শিক্ষার্থীদের শেখায় যে, পূর্ণ প্রতিযোগিতার পরিস্থিতিই সবসময় কাম্য কেননা এতে করে প্রতিটি ‘উৎপাদনের উপকরণ’ তাদের প্রাপ্য (প্রান্তিক উৎপাদনের সমান) আয় পাবে। মূলত এর মাধ্যমে

অ্যালেক্স থমাস

অ্যালেক্স থমাস ভারতে ব্যাঙ্গালরের আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অ্যালেক্স মাদ্রাজ, হায়দ্রাবাদ এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, যেমন অর্থ বিজ্ঞানা, ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি, ইউরোপীয় জার্নাল অফ দ্য হিস্ট্রি অফ ইকোনমিক থট, এবং আরও কিছু। তিনি এখন ইউরোপীয় সোসাইটি অফ দ্য হিস্ট্রি অফ ইকোনমিক থট (ESHET)-এর একজন কাউন্সিল সদস্য হিসেবে কাজ করছেন এবং অর্থনৈতিক চিন্তাধারার ইতিহাস নিয়ে একটি পাঠ্যবই লিখছেন। গত আট বছরে, অ্যালেক্স ১০০টিরও বেশি আমন্ত্রিত বক্তৃতা দিয়েছেন, যেগুলোতে তিনি অর্থনীতির ইতিহাস, ধ্রুপদী রাজনৈতিক অর্থনীতি, প্রচলিত ধারার বাইরের অর্থনীতি, এবং অর্থনীতি পড়ানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর কিছু বক্তৃতা ইউটিউবে দেখা যায়।

অর্থনীতিকে সাধারণত দুটি বড়ো ভাগে বিভক্ত করা হয়: মাইক্রোইকোনোমিক্স (ব্যাষ্টিক অর্থনীতি) এবং ম্যাক্রোইকোনোমিক্স (সামষ্টিক অর্থনীতি)। এটি স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চতর শিক্ষায় ব্যবহৃত একটি সাধারণ শ্রেণীবিভাগ। কিন্তু আমাদের পাঠ্য হিসেবে থাকা অর্থনীতির বইগুলোতে সচরাচর যা উল্লেখ করা হয় না তা হল, এই শ্রেণীবিভাগটি নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতি নামে পরিচিত একটি বিশেষ ধরনের অর্থনীতি থেকে এসেছে। মাইক্রোইকোনোমিক্সের বইয়ের প্রথম অধ্যায়গুলোতে আমাদের শেখানো হয় দুটি প্রকারের অর্থনীতি আছে: পজেটিভ অর্থনীতি (যেটি কীভাবে জিনিস কাজ করে তা বিশ্লেষণ করে) এবং নর্মেটিভ অর্থনীতি (যেটি কীভাবে জিনিস কাজ করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করে)। এই বিভাজন শিক্ষার্থীদের এটাই বিশ্বাস করায় যে মাইক্রোইকোনোমিক্স বৈজ্ঞানিক, নিরপেক্ষ, এবং রাজনীতিমুক্ত। কিন্তু আমার যুক্তি বলছে যে, এই ধরনের ইচ্ছাকৃত ও কৃত্রিম শ্রেণীবিভাগের উদ্দেশ্য নিওক্লাসিকাল অর্থনীতিকে একাডেমিক জগৎ ও নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী বা ডমিনেন্ট করে তোলা। তবে, মাইক্রোইকোনোমিক্সের মধ্যে রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন আমরা এর ইতিহাস ভালোভাবে দেখি। এই প্রবন্ধে আমরা উৎপাদনের উপাদান (Factors of Production), যেমন ভূমি, শ্রম, পুঁজি, এবং প্রান্তিক (মার্জিনাল) পণ্যের ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

মাইক্রোইকোনোমিক্স নিজেকে নিরপেক্ষ এবং বৈজ্ঞানিক হিসেবে উপস্থাপন করে, যেখানে উৎপাদনের প্রতিটি উপাদান—যেমন ভূমি, শ্রম, এবং পুঁজি—কে সমানভাবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে, শ্রম ও পুঁজিকে একই রকমভাবে দেখা হয়, যেন তাদের ভূমিকা সিমেট্রিক্যাল বা একরকম। অর্থাৎ, মনে করা হয় শ্রমিক ও পুঁজির মালিক উভয়েই সমান অবদান রাখছেন এবং উভয়ের আয়ের ভিত্তি তাদের অবদানের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এই ধারণাটি বাস্তবের সাথে পুরোপুরি মিল খায় না। কারণ, উৎপাদনের উপাদানগুলো কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথেও যুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, ভূমি কোনো ব্যক্তির মেহনতের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। এটি প্রকৃতির দান এবং এর মূল্যায়ন শ্রম বা পুঁজির মতো করা যায় না। ভূমির মালিকানা, ব্যবহার, এবং এর মূল্য নির্ধারণ সমাজের দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। শ্রমের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; শ্রমিকদের জীবনে নানা সামাজিক প্রভাব কাজ করে যা শ্রমের মূল্যায়নে ভূমিকা রাখে। এভাবে শুধু অর্থনৈতিক তত্ত্ব দিয়ে শ্রম ও ভূমির সমান মূল্যায়ন করা আসলে সমাজের বাস্তব চিত্রকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না।

অর্থনৈতিক তত্ত্বের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনের মান উন্নত করা। এই লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে শুধুমাত্র মানুষ নয়, প্রাণী ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বও আমাদের রয়েছে। কিন্তু মাইক্রোইকোনোমিক্সে উৎপাদনের উপকরণগুলোর যে ধারণা ব্যবহার করা হয়, তাতে প্রাণী, পরিবেশ বা সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। ফলে, উৎপাদনের উপকরণের ধারণা শুধুমাত্র আয় বণ্টনের তত্ত্বে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এ পর্যায়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে: অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উৎপাদনের উপকরণের ধারণা ব্যবহার করার যৌক্তিকতা কী? এর একটি কারণ হতে পারে অর্থনীতির তত্ত্বকে রাজনৈতিক বিষয়বস্তু থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। উৎপাদনের উপকরণগুলোকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করার ফলে মনে হতে পারে যে সমাজে আয় বণ্টনে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভূমি, শ্রম এবং পুঁজির মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে প্রায়ই সংঘাত থাকে এবং এসব দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

তাই, বলা যায় যে, মাইক্রোইকোনোমিক্সের এই তত্ত্বগুলো অর্থনীতিকে যেন নিরপেক্ষভাবে দেখাতে চায় এবং সমাজের সংঘাত ও বৈষম্যগুলোকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু অর্থনীতির মূল লক্ষ্য যেহেতু মানুষের জীবনের মান উন্নত করা, তাই এই তত্ত্বগুলোকে আরো বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা উচিত, যেখানে মানুষ, সমাজ এবং পরিবেশের সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রথমদিকের অর্থনীতিবিদরা, যেমন ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ আর কার্ল মার্কস, সমাজকে কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করে অর্থনীতির বিভিন্ন কার্যপ্রণালী বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মতে, সমাজের তিনটি মূল শ্রেণী ছিল—ভূমির মালিক, শ্রমিক, এবং উদ্যোক্তা। এই বিভাজনটি মূলত আয় কিভাবে বণ্টন হয়, তা ব্যাখ্যা করতে কাজে লাগানো হয়েছিল। ধারণাটি ছিল এমন যে, ভূমির মালিকেরা জমি ভাড়া দিয়ে আয় করতেন, শ্রমিকরা কাজের জন্য মজুরি পেতেন, এবং উদ্যোক্তারা ব্যবসা বা উৎপাদন থেকে লাভ অর্জন করতেন। মাইক্রোইকোনোমিক্সে এই তত্ত্ব আরও বিশদে বুঝানো হয়। এখানে বলা হয় যে উৎপাদনের প্রধান উপাদানগুলো হলো ভূমি, শ্রম, পুঁজি, এবং উদ্যোগ। প্রত্যেকটি উপাদানের জন্য আলাদা পুরস্কার নির্ধারিত—ভূমি থেকে ভাড়া পাওয়া যায়, শ্রম থেকে মজুরি, পুঁজির জন্য সুদ, এবং উদ্যোগের জন্য লাভ। এইভাবে উৎপাদনের উপাদান আর তাদের আয় বা পুরস্কার আলাদা করে দেখানো হয়।

মাইক্রোইকোনমিক তত্ত্বে পুঁজিকে কীভাবে মাপা যায়, তা বোঝা কিছুটা জটিল। জমি মাপা যায় একর, হেক্টর বা বর্গফুটে, আর শ্রমকে মাপা যায় কর্মঘণ্টা, কর্মদিবস, বা শ্রমিকের সংখ্যায়। কিন্তু পুঁজির ক্ষেত্রে এরকম নির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি নেই। এখানে আরেকটি প্রশ্ন আসে—পুঁজি আসলে কী? পুঁজি তো শ্রমের মাধ্যমে কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, তাহলে এটিকে কেন উৎপাদনের আলাদা উপকরণ হিসেবে ধরা হয়? এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তবে, অর্থনীতিবিদরা মনে করেন যে, পুঁজি আর্থ-সামাজিক সংঘাত এড়ানোর জন্যই আলাদা উপাদান হিসেবে দেখানো হয়। আসলে, ‘উৎপাদনের উপকরণ’ ধারণাটি ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজকে একটা শান্তিপূর্ণ চিত্রে উপস্থাপন করা হয়। মনে হয় যেন সমাজে সম্পদ বা উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো সমস্যা বা দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদরা সমাজে আয় বণ্টনের এই দ্বন্দ্বকেই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

প্রান্তিক উৎপাদন বলতে বোঝায়, কোনো একটি উৎপাদন উপকরণের (যেমন শ্রম বা পুঁজি) এক ইউনিট বাড়ালে উৎপাদনে কতটুকু অতিরিক্ত অবদান যোগ হয়। অর্থনীতি ও ব্যবসা শিক্ষায় এই ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায়, কীভাবে উৎপাদনের উপকরণগুলো আয়ের বণ্টনের সাথে সম্পর্কিত। নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতিতে, এই প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা ধারণা থেকেই উৎপাদনের উপকরণগুলোর মালিকদের মধ্যে আয় কীভাবে ভাগ হবে, তা বোঝানো হয়। তবে, এই তত্ত্বের প্রয়োগ সফল করতে হলে উৎপাদনের উপকরণগুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হয়। কিন্তু মাইক্রোইকোনোমিক্সে সাধারণত সরাসরি উপকরণের মালিকদের কথা উল্লেখ করা হয় না। বরং এখানে বলা হয় যে, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শ্রম ও পুঁজির অবদান অনুযায়ী তাদের মজুরি বা সুদ নির্ধারিত হয়—শ্রমিকরা তাদের প্রান্তিক উৎপাদনের সমান মজুরি পায় এবং পুঁজির জন্য প্রাপ্ত সুদও পুঁজির প্রান্তিক উৎপাদনের সমান হয়। তবে, প্রান্তিক উৎপাদনের এই ধারণাটি কেবল ‘সম্ভাব্য পরিবর্তন’ হিসেবেই গণনা করা হয়, এবং একে বের করতে ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলাস ব্যবহার করা হয়। প্রান্তিক উৎপাদনের এই ধারণা আসলে প্রাথমিকভাবে রিকার্ডোর তত্ত্ব থেকে নেওয়া, যেটা জমির প্রভাব নিয়ে কথা বলত। রিকার্ডোর মতে, জমিতে যত বেশি শ্রম বা যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হতো, জমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এক পর্যায়ে উৎপাদন বাড়তে থাকলেও ধীরে ধীরে উৎপাদনের হার কমতে শুরু করত। পরে, নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদরা রিকার্ডোর এই তত্ত্বকে শুধু জমির ক্ষেত্রেই নয়, বরং শ্রম ও পুঁজির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেন, যা বলা হয় ‘প্রান্তিক উৎপাদনের হ্রাসমান হার’ (Law of Marginal Productivity)। কিন্তু এই সরলীকরণটি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত বা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক প্রমাণিত হয়নি। আমাদের বেশিরভাগ মাইক্রোইকোনোমিক্স বই এবং শিক্ষকরা এই তত্ত্বের পেছনের ইতিহাস ও এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে সচরাচর আলোচনা করেন না।

নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতি সমাজকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেখানে সবাই মিলেমিশে কাজ করছে—ঋণদাতা, ভাড়াটিয়া, উদ্যোক্তা, মজুর শ্রমিক, ও বেতনভুক্ত কর্মচারী সবাই যেন একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ভূমিকা পালন করছে। এই ধারণাটি ‘উৎপাদনের উপকরণ’ তত্ত্বের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতি শিক্ষার্থীদের শেখায় যে, নিখুঁত প্রতিযোগিতার অবস্থা সমাজের জন্য সবসময় ভালো, কারণ এতে করে প্রতিটি উৎপাদনের উপকরণ—ভূমি, শ্রম, পুঁজি এবং উদ্যোগ—তাদের অবদানের জন্য উপযুক্ত পুরস্কার পাবে। উদাহরণস্বরূপ, শ্রমিকরা তাদের প্রান্তিক উৎপাদনের সমান মজুরি এবং পুঁজির মালিকরা তাদের প্রান্তিক উৎপাদনের সমান সুদ পাবেন। এতে মনে হয়, যেন সমাজে সবাই তাদের যথাযথ প্রাপ্য আয় পায়, এবং সমাজে কোনো সংঘাত নেই।

এইভাবে নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতি সমাজে সমতার একটি শান্তিপূর্ণ ছবি তুলে ধরে। তবে, এটি রিকার্ডোর প্রান্তিক তত্ত্ব বা ডিফারেন্সিয়াল রেন্ট তত্ত্ব থেকে নেওয়া একটি সরলীকরণ ও কিছুটা ভুল ব্যাখ্যা। রিকার্ডো জমির ক্ষেত্রে দেখিয়েছিলেন যে, গুণগত বৈচিত্র্যের কারণে জমিতে যত বেশি শ্রম ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, তত কম উৎপাদনশীলতা পাওয়া যায়। নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতিবিদরা এই ধারণাটিকে শ্রম ও পুঁজির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে প্রতিটি উপাদান ঠিক তাদের অবদানের সমান আয় পায়। তবে বাস্তবিকভাবে দেখা যায়, এই সরলীকৃত তত্ত্ব অনেক ক্ষেত্রে সমাজের বাস্তব চিত্রকে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।

নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির এই ধারণাগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণগুলোকে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংঘাত থেকে দূরে রাখা যায়। এতে মনে হয় যে সমাজে সবাই নিজেদের অংশ পায় এবং সমাজে কেউ কারো সাথে বিরোধে নেই। আসলে, এই তত্ত্বগুলো ব্যবহার করে নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতি নিজেকে নিরপেক্ষ, বৈজ্ঞানিক এবং রাজনীতিমুক্ত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবে, অর্থনীতিতে আয় ও সম্পদের বণ্টনের ক্ষেত্রে নানা রকম সংঘাত ও বৈষম্য দেখা যায়, যা নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির এই তত্ত্বগুলোতে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। তাই বলা যায়, নিওক্লাসিক্যাল অর্থনীতির এই ধারণাগুলি মূলত অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ভেতরের সংঘাত ও বৈষম্যকে আড়াল করে একটি সমান, নিরপেক্ষ সমাজের চিত্র তৈরি করতে সাহায্য করে।

লেখক

অ্যালেক্স থমাস ভারতে ব্যাঙ্গালরের আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অ্যালেক্স মাদ্রাজ, হায়দ্রাবাদ এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, যেমন অর্থ বিজ্ঞানা, ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি, ইউরোপীয় জার্নাল অফ দ্য হিস্ট্রি অফ ইকোনমিক থট, এবং আরও কিছু। তিনি এখন ইউরোপীয় সোসাইটি অফ দ্য হিস্ট্রি অফ ইকোনমি...

Scroll to Top