“নজরদারি পুঁজিবাদ” (Surveillance Capitalism) শব্দটি শোশানা জুবফ তার ২০১৯ সালের বই The Age of Surveillance Capitalism”-এ প্রথম ব্যবহার করেন। এটি এমন একটি নতুন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে বিভিন্ন কর্পোরেশন ডিজিটাল মাধ্যমে সৃষ্ট ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সেই তথ্যের বাণিজ্যিক প্রয়োগের মাধ্যমে থেকে মুনাফা করে থাকে। প্রচলিত পুঁজিবাদের সাথে এর একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। প্রচলিত পুঁজিবাদী কাঠামোতে পণ্য ও সেবার উপর ভিত্তি করে ব্যবসা চলে, সেখানে নজরদারি পুঁজিবাদ ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও আচরণকে পণ্যে পরিণত করে এবং তা থেকে আয় করে।
নজরদারি পুঁজিবাদের মূল প্রক্রিয়াটি হলো ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যকলাপ থেকে আপনার স্পষ্ট সম্মতি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহ করা। এরপর সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আপনার ভবিষ্যৎ আচরণ অনুমান করা হয়। পরবর্তীতে সেই তথ্য বিজ্ঞাপনদাতা বা অন্যান্য সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়। এই তথ্যের সাহায্য সেই সব সংস্থা আপনার ক্রয় সিদ্ধান্তসহ ব্যক্তিগত নানা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে চায়। এই প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক মাধ্যম এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাধ্যমে সর্বব্যাপী হয়ে উঠেছে, এবং একটি নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সমালোচকরা যুক্তি দেন যে নজরদারি পুঁজিবাদ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বতন্ত্রতা এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে।
এই ব্যবস্থায় মানুষকে এমন কাঁচামালের মতো দেখা হয়, যেখান থেকে মূল্য পাওয়াএর ফলে একটি নতুন ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়—যেখানে ব্যক্তিরা শুধু তাদের শ্রমের ফল থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, বরং তাদের নিজের ডিজিটাল পরিচয় এবং ব্যক্তিগত জীবন থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এর পাশাপাশি, নজরদারি পুঁজিবাদ কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানির হাতে সম্পদ ও ক্ষমতার একচেটিয়া কেন্দ্রীকরণকে ত্বরান্বিত করে, যা পুঁজিবাদী শ্রেণী বৈষম্যকে আরও গভীর করে। এই কোম্পানিগুলো তথ্যের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবন, কেনাকাটার অভ্যাস এবং এমনকি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
লেখক










