ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কানাডা দখলের কথা বলে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা কানাডার ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়েছে। পিয়েরে পয়লিয়েভ ও ডগ ফোর্ড জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় কাজ করলেও, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা একদিকে নিজেদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, আবার অন্যদিকে এই সম্পর্কগুলো নষ্ট না করার জন্য ভারসাম্য রাখতে চেষ্টা করছেন।
কানাডায় রক্ষণশীল রাজনীতির জন্য এখন সময়টা বেশ জটিল। অনেক কানাডীয় ডানপন্থী অনেক দিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার “ম্যাগা” (MAGA) দলকে সমর্থন করে আসছেন। এমনকি অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড নিজেকে ট্রাম্পের শক্ত সমর্থক বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু এই সম্পর্ক বজায় রাখা সহজ নয়। কারণ, কানাডার জাতীয় পরিচয় অনেকটাই “আমেরিকান নয়” হওয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। একই সময়ে, কানাডা চায় যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্ব দিক। এই বিপরীত চাওয়াগুলো রক্ষণশীল রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বলছেন, তিনি কানাডাকে “অর্থনৈতিক শক্তি” দিয়ে দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানাতে চান, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এরই মধ্যে কানাডার মানুষ আসন্ন বসন্তে দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অবস্থায়, কানাডার ডানপন্থী নেতারা খুব সাবধানে চলছেন। তারা একদিকে নিজেদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছেন, আবার অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখার চেষ্টা করছেন।
কানাডার মূলধারার রক্ষণশীল নেতারা ট্রাম্পের কানাডাকে “ক্যালিফোর্নিয়া নর্থ” বানানোর মন্তব্য দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করেছেন। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভ এক্স/টুইটারে স্পষ্ট করে বলেছেন, “কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হবে না। আমরা একটি মহান ও স্বাধীন দেশ।” তিনি আরও বলেছেন, তিনি “কানাডাকে সবার আগে রাখবেন,” যদিও তার বক্তব্যের অর্থ পুরোপুরি পরিষ্কার নয় অন্যদিকে, ডগ ফোর্ড, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি ট্রাম্প কানাডার ওপর শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে অন্টারিও থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফোর্ড আরও বলেছেন, “কানাডা বিক্রির জন্য নয়।”
রক্ষণশীলদের কৌশলী পদক্ষেপ
কানাডার রক্ষণশীল নেতারা এখন এক জটিল পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন। তারা একদিকে কানাডার পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছেন। অন্যদিকে, তারা মেনে নিচ্ছেন যে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র থেকে খুব বেশি আলাদা হয়ে থাকতে পারবে না। তাই যতই জোরালো ভাষায় জাতীয়তাবাদের কথা বলা হোক, বিষয়টি আসলে অনেক জটিল।
ডগ ফোর্ড একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছেন। আবার অন্যদিকে, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জ্বালানি সহযোগিতার প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি এই জোটের নাম দিয়েছেন “ফোর্ট্রেস অ্যাম-ক্যান”। এর মাধ্যমে তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফোর্ডের মতে, এই জোট দুই দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি, এটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের, বিশেষত চীনের, বিরুদ্ধে শক্তিশালী করবে। সহজ ভাষায়, ফোর্ড দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চান, যাতে উভয় দেশের উন্নতি হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডার সঙ্গে সহযোগিতার তেমন কোনও দরকার নেই। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন, “তাদের জ্বালানি, শক্তি, তেল ও গ্যাস—আমাদের কিছুই প্রয়োজন নেই।” ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে, কানাডার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আসলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভর্তুকি। এক প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে জানিয়েছিলেন, যদি কানাডা সেই বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছাড়া টিকে থাকতে না পারে, তাহলে কানাডার উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া। ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি কানাডাকে সহযোগিতার অংশীদার নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন, যাকে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কিছু কানাডিয়ান মনে করতে পারেন যে, গত কয়েক দশক ধরে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ায় থেকেছে। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পর, কানাডাকে অনেক সময় “যুক্তরাষ্ট্রের শাখা কারখানা” বলা হতো। অর্থাৎ, কানাডা যেন যুক্তরাষ্ট্রের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল একটি অংশ। এই পরিস্থিতিতে পিয়েরে পয়লিয়েভ নিজের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন। তিনি একদিকে ট্রাম্পের সমর্থকদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন, আবার অন্যদিকে কানাডার স্বাধীনতা ও শক্তি নিয়ে জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগাচ্ছেন। পয়লিয়েভের মতে, ট্রুডো সরকার কানাডাকে এতটাই দুর্বল করে ফেলেছে যে, এখন ট্রাম্পের মতো নেতারা সহজেই কানাডাকে হুমকি দিতে পারছেন। তিনি বলছেন, ট্রুডো সরকারের ব্যর্থতার কারণেই কানাডা আজ এমন বিপদে পড়েছে পয়লিয়েভ চান, কানাডা আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ হোক। তার কৌশল হলো জনগণের ভেতরে ট্রুডো সরকারের প্রতি অসন্তোষ বাড়ানো এবং নিজেকে সেই নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা, যিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন। এই সহজ এবং সরাসরি বার্তাটি তাকে নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
দৃঢ় অবস্থান ও সহযোগিতার বার্তা
পিয়েরে পয়লিয়েভ তার এক্স/টুইটারে ঘোষণা দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি কানাডার সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করবেন এবং সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনবেন। এর লক্ষ্য হবে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণও ফিরিয়ে নেবেন, যাতে রাশিয়া এবং চীন সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। পয়লিয়েভ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কানাডা আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য করেছে “বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে” এবং আমেরিকান পণ্য কিনেছে, যার মূল্য শত শত বিলিয়ন ডলার। তার বার্তা স্পষ্ট—কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কানাডার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
লিবারালদের সমালোচনা এবং বাস্তবতা
পিয়েরে পয়লিয়েভ বলেছেন, লিবারাল পার্টি আর বামপন্থী নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আসলে এক রকম। তার মতে, তারা “দুর্বল” এবং “নিরাশাজনক”। তিনি আরও দাবি করেছেন, এই দলগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। লিবারাল সরকার বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই কৌশলে কাজ করে আসছে এবং এটি অতীতে সফলও হয়েছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও এই কৌশল কাজে লেগেছিল। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হতে পারে। কারণ ট্রাম্প এখন বাণিজ্য ঘাটতি ও শুল্ক আরোপ নিয়ে আরও বেশি মনোযোগী এবং কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। তার এই পরিবর্তিত মনোভাব কানাডার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
পিয়েরে পয়লিয়েভ তার পোস্ট এবং বক্তব্যে মাঝে মাঝে নিজের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করে ফেলেছেন, যেমন ডগ ফোর্ড তার শক্তি পরিকল্পনার সময় করেছিলেন। ট্রাম্পের হুমকির মুখে কানাডার সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে রক্ষণশীলদের অবস্থান দেখলে বোঝা যায়, তারা একদিকে বড় বড় কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে তারা শেষ পর্যন্ত আপস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের কৌশল হলো শক্ত অবস্থানের কথা বলা, কিন্তু শেষমেশ যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়া।
রক্ষণশীলরা বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে বা নিরাপত্তার জন্য বেইজিং বা অন্য কোনও দেশের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। জাতীয় গৌরব দেখানো বা বিরোধিতা প্রকাশ করা রাজনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে এটি মূলত আনুষ্ঠানিক এবং প্রতীকী। আসলে, রক্ষণশীলদের নীতি সবসময় এক থাকে, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক। তারা গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক, যৌথ সামরিক লক্ষ্য এবং পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। সেই সঙ্গে তারা এমনভাবে আলোচনার চেষ্টা করে, যাতে সর্বোচ্চ লাভ নিশ্চিত হয়।
পিয়েরে পয়লিয়েভের নেতৃত্বে একটি রক্ষণশীল সরকার মূল নীতিগুলোতে লিবারালদের চেয়ে খুব বেশি আলাদা হবে না। কারণ কানাডার অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। কানাডার বেশিরভাগ রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে যায়, এবং দুই দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো রয়েছে। যদি এই গভীর সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করার কোনও উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে কানাডা একই নির্ভরশীলতা এবং আপসের চক্রে আটকে থাকবে। যা পরিবর্তন হতে পারে, তা হলো রক্ষণশীল জনতাবাদীদের সুর। দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে, কানাডা এক নতুন ধরণের জাতীয়তাবাদের দিকে যেতে পারে। এই জাতীয়তাবাদ আদর্শগত একত্রীকরণের চেয়ে সীমান্ত সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেবে। এটি দেশের ভেতরে নতুন ধরনের রাজনৈতিক মনোভাব তৈরি করতে পারে।
কানাডার সংকট ও পরিচয়ের নতুন অধ্যায়: জাতীয়তাবাদ, কৌশল ও বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা হুমকি অনেক কানাডিয়ানের মনোভাব বদলে দেবে এবং তাদের জাতীয়তাবাদী আবেগকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে। এটি এমন একটি ধারণাকে আরও শক্তিশালী করবে, যেখানে কানাডার পরিচয় প্রথমে এবং প্রধানত “আমেরিকা নয়”—এই ভাবনায় গভীরভাবে গাঁথা থাকবে। এমনকি রক্ষণশীলরাও এই আবেগের বাইরে থাকতে পারবে না। তারা তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ধরে রাখলেও, সংকটের সময় মেপল লিফের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করবে এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবে। রক্ষণশীলরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার কোনও চিন্তা না করে বরং একটি স্বতন্ত্র কানাডিয়ান জাতীয়তাবাদকে গুরুত্ব দেবে। এই জাতীয়তাবাদ শুধুমাত্র তাদের পরিচয়কে শক্তিশালী করবে না, বরং কানাডার নিজস্ব ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করবে। এটি কানাডার স্বকীয়তাকে আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
পিয়েরে পয়লিয়েভ এবং কানাডার অন্যান্য শীর্ষ রাজনীতিবিদ, যারা দেশীয় রাজনীতিতে সফল হতে চান, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ বা অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দেবেন। তবে বাস্তবে, তারা আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতেই আগ্রহী হবেন। এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। প্রথমে তারা বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেবেন, কিন্তু শেষে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মেনে কিছু ছাড় দিতে রাজি হবেন। এই পদ্ধতি তাদের একদিকে শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে, আবার অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্যও ঠিক রাখবে। এটি তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ ও কার্যকর কৌশল।
কানাডিয়ানদের এখন রাজনীতিবিদদের বক্তৃতার চমক নয়, তাদের বাস্তব পদক্ষেপের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আগামী দিনে অনেক উচ্চকণ্ঠে কথা বলা হবে, আত্মবিশ্বাসী প্রতিশ্রুতি শোনা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতা ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে রাজনীতিবিদরা প্রয়োজন হলে আপস করতে দ্বিধা করবে না। এটি কানাডার ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে কানাডা এমন এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ভরশীল সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য। আজকের সংকট সেই পুরনো কাহিনির আরেকটি অধ্যায়। কানাডা সবসময়ই ভারসাম্য বজায় রাখার এক শিল্পে দক্ষ ছিল—শক্ত কথার আড়ালে বাস্তবিক কৌশল আর নীতির মাধ্যমে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখা। বর্তমান পরিস্থিতিও এর ব্যতিক্রম নয়, এবং একভাবে বললে—এটাই কানাডার প্রকৃত পরিচয়।
অনুবাদঃ তাওহীদুর রহমান।
কৃতজ্ঞতাঃ জ্যাকোবিন ডট কম।
লেখকবৃন্দ
সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, নয়াদিল্লীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ছেন। ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, জগৎ দেখার ইচ্ছা আছে।










