পুঁজিবাদের অগণতান্ত্রিক বাস্তবতা

পুঁজিবাদ প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চাকে সামনে আনতে চায় না, কারণ এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোটের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের হাতে কেন্দ্রীভূত সম্পদের ওপর হুমকি তৈরি করে। আনুষ্ঠানিক গণতন্ত্রের কাঠামোতে সার্বজনীন ভোটাধিকার বা নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকলেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য এগুলোকে দুর্বল রাখা।

রিচার্ড উলফ

অধ্যাপক উলফ একজন প্রখ্যাত মার্কিন মার্ক্সবাদী অর্থনীতিবিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের (অ্যামহার্স্ট) ইমেরিটাস অধ্যাপক। উলফের সাপ্তাহিক শো, "ইকোনমিক আপডেট," ১০০টিরও বেশি রেডিও স্টেশন দ্বারা সম্প্রচারিত এবং ফ্রি স্পিচ টিভির মাধ্যমে ৫৫ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছায়। ডেমোক্র্যাসি অ্যাট ওয়ার্কের সাথে তার তিনটি সাম্প্রতিক বইঃ The Sickness Is the System: When Capitalism Fails to Save Us From Pandemics or Itself, Understanding Marxism, এবং Understanding Socialism।

পুঁজিবাদের সমর্থকরা প্রায়ই পুঁজিবাদকে গণতান্ত্রিক ও এটি গণতন্ত্রকে সমর্থন করে বলে দাবি করেন। উৎসাহীদের মধ্যে কেউ কেউ পুঁজিবাদ এবং গণতন্ত্রকে প্রায় সমার্থক হিসাবে ব্যবহার করে, শব্দগুলোকে একে অপরের পরিবর্তে ব্যবহার করেন। তবে যতবারই পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্রকে এক করে দেখানো হোক না কেন, এটি কখনোই সত্য ছিল না এবং আজও সত্য নয়। পুঁজিবাদ আর গণতন্ত্র আসলে একে অপরের বিপরীত। পুঁজিবাদকে যদি উৎপাদনের পদ্ধতি হিসেবে দেখি, তাহলে দেখা যাবে, এখানে কর্মচারীরা তাদের চাকরিদাতার সাথে কাজের সম্পর্ক তৈরি করে। এই ব্যবস্থায় কিছু মানুষ থাকে যারা “বস” বা মালিকের ভূমিকায় থাকে এবং তারা সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, বেশিরভাগ মানুষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করে। এর মানে, কাজের পরিবেশে সবাই সমান সুযোগ বা অধিকার পায় না। ফলে এই সম্পর্ক গণতান্ত্রিক নয়, বরং একপাক্ষিক নিয়ন্ত্রণে চলে, যা অনেকটা স্বৈরাচারী শাসনের মতো।

যখন আপনি আপনার কর্মস্থলে প্রবেশ করেন—হোক তা কারখানা, অফিস, বা দোকান—আপনি বাইরের যে কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পেছনে ফেলে আসেন। প্রকৃতপক্ষে কর্মক্ষেত্রের ভেতরে গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই। অধিকাংশ কর্মচারী, শ্রমিক বা চাকুরীজীবীরা কি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিজেরা নেয়? এক কথায়, “না।” পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকে মালিক বা পরিচালনা পর্ষদের হাতে। তারাই ঠিক করে প্রতিষ্ঠান কী উৎপাদন করবে, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, কোথায় উৎপাদন হবে, এবং লাভ কোথায় ব্যয় হবে। কর্মক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কোনো মতামত থাকে না, অথচ এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলাফল তাদের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। যেমন, একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না, অথচ এটি থাকা বা থাকার উপর তাদের জীবন নির্ভর করে। অথবা একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শাখা কমানোর সিদ্ধান্ত তাদের কর্মীদের স্থানান্তর বা চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। কর্মীদের সামনে তখন দুটি পথ খোলা থাকে: হয় তারা নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্ত মেনে নেবে, নয়তো চাকরি ছেড়ে অন্যত্র কাজ খুঁজবে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নতুন কাজেও একই ধরনের অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।

পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়োগকর্তা এক ধরণের একনায়ক, ঠিক যেমন রাজতন্ত্রে একজন রাজা। গত কয়েক শতাব্দী ধরে রাজতন্ত্রগুলো সাধারণত “অভ্যুত্থানের” মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে এবং তাদের স্থানে এসেছে প্রতিনিধিত্বশীল, নির্বাচনী গণতন্ত্র। কিন্তু রাজারা হারিয়ে যায়নি; তারা কেবল তাদের অবস্থান বদলে ফেলেছে। রাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ভূমিকা ছেড়ে তারা এখন পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে অর্থনৈতিক শক্তি দখল করে নিয়েছে। একসময়ে রাজা বা জমিদার নামে পরিচিত ব্যক্তিরা বস, মালিক বা সিইও নামে পরিচিত। তারা এখন পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে বসে, রাজাদের মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করে। কিন্তু যাদের তারা শাসন করে, তাদের কাছে কোনো জবাবদিহিতাই তাদের করতে হয়না।

শতাব্দী ধরে গণতন্ত্রকে পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দূরে রাখা হয়েছে। পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোই শুধু একনায়কতান্ত্রিক নয়, সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও—যেমন সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আর দাতব্য সংস্থা—অনেক সময় একই রকম হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ভেতরের সম্পর্ক পুঁজিবাদী কর্মক্ষেত্রের মতোই, যেখানে বস নির্দেশ দেয় আর অন্যরা তা মেনে চলে। এসব প্রতিষ্ঠান এইভাবে “ব্যবসায়িক ধাঁচে পরিচালিত” হওয়ার চেষ্টা করে, যেখানে গণতান্ত্রিক নীতির চর্চা খুব কমই দেখা যায়।

পুঁজিবাদী সমাজে নিয়োগকর্তারা একটি শক্তিশালী শ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বড় শেয়ারহোল্ডার ও সিইওদের নেতৃত্বে তারা বিপুল সম্পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, এবং প্রচারণার উপর প্রভাব ফেলে। যদিও এসব কর্মকাণ্ডকে “দান” বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক কাঠামোকে নিজেদের সুবিধামতো ধরে রাখা। ধনী শ্রেণি জানে যে, সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে দরিদ্র সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের পক্ষে রায় দিতে পারে। তাই তারা গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে নিশ্চিত করে যে গণতন্ত্র কখনোই জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন না ঘটায়। ফলস্বরূপ, কর্মচারী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ভোট দিয়েও নিয়োগকর্তা শ্রেণিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। গণতন্ত্রকে সত্যিকারের জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য পরিচালিত করার পথে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই সবচেয়ে বড় বাধা।

বড় কর্পোরেশন বা “বৃহৎ ব্যবসা” তাদের বিপুল উদ্বৃত্ত সম্পদের কারণে আধুনিক অর্থনীতির দৃশ্যপটে একপ্রকার অসীম ক্ষমতার অধিকারী। এই সম্পদ তাদের শীর্ষ নির্বাহীদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করে। যদিও এই নির্বাহীরা টেকনিক্যালি “কর্মচারী” হিসেবে বিবেচিত, তারা কর্পোরেট ক্ষমতা ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার করে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেন। এই প্রভাবের মূলে রয়েছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রতি তাদের অপরিসীম আনুগত্য, কারণ এই ব্যবস্থাই তাদের সুবিধা, প্রভাব এবং বিলাস বজায় রাখার প্রধান মাধ্যম। নিয়োগকর্তা শ্রেণি ও ধনী ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক কাঠামোকে এমনভাবে নির্মাণ করেছেন, যেখানে জনগণের ভোটের চেয়ে তাদের অর্থই অধিক প্রভাবশালী। ফলস্বরূপ, বড় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা দিন দিন পুঁজিবাদী কর্পোরেশন এবং ধনী শ্রেণির অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। রাজনীতিবিদদের বিশাল অর্থের প্রয়োজনীয়তা তাদেরকে সাধারণ মানুষের চাহিদার চেয়ে ধনী শ্রেণির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করে। এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয় ব্যয়বহুল নির্বাচনী প্রচারণা এবং গণমাধ্যমে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পেছনে। ফলস্বরূপ, গণতন্ত্রের প্রকৃত স্পৃহা—যেখানে জনগণের কণ্ঠস্বর সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়—তা ক্রমেই ম্লান হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি একটি গভীর প্রশ্ন তোলে: পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষমতার ভারসাম্য সমাজের বৃহত্তর কল্যাণের পথে কতটুকু অন্তরায় হয়ে উঠেছে?

অনেক সময় রাজনীতিবিদরা এমন দাতাদের সন্ধান করেন যারা পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী বা নির্দিষ্ট কিছু শিল্প, অঞ্চল, বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দাতারাই প্রার্থীদের খুঁজে নেন। নিয়োগকর্তারা পেশাদার লবিস্টদের নিয়োগ দেন, যারা বছরভর নির্বাচিত নেতাদের প্রভাবিত করতে কাজ করে। পাশাপাশি, তারা “থিঙ্ক ট্যাঙ্ক” গুলোকে অর্থায়ন করে, যেগুলো বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে। এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো অর্থদাতাদের ইচ্ছা ও মতামতকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। এভাবেই বড় ব্যবসা ও ধনী ব্যক্তিরা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার করে, যেখানে জনগণের ভোট অপেক্ষা তাদের অর্থই বেশি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে, বেশিরভাগ কর্মচারীর কাছে সম্পদ বা ক্ষমতার প্রভাব খুবই সীমিত। প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য তাদের বড় আকারে সংগঠিত হওয়া, সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। কেবলমাত্র এভাবেই সংখ্যার শক্তিকে কার্যকর ক্ষমতায় রূপান্তরিত করা সম্ভব। তবে এটি অত্যন্ত কঠিন এবং বাস্তবে খুব কমই ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, দুটি প্রধান দলের বাইরে কোনো নতুন দলের পক্ষে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। এই দুই দলই পুঁজিবাদকে উচ্চস্বরে সমর্থন করে এবং গর্বের সঙ্গে তার পক্ষে কাজ করে। তারা একসঙ্গে এমন একটি কাঠামো বজায় রাখে যা কোনো তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ নিতে বাধা দেয় এবং কোনো পুঁজিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা থেকে রোধ করে। যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই তার নাগরিকদের সর্বাধিক স্বাধীন পছন্দের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে কখনোই প্রযোজ্য হয় না। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আসল প্রতিযোগিতা বা বিকল্পের সুযোগ কার্যত সীমিত রাখা হয়েছে।

গণতন্ত্রের মূল দর্শন হলো “এক ব্যক্তি, এক ভোট”—যেখানে প্রতিটি নাগরিকের  তাদের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অধিকার রয়েছে। আদর্শ গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কারো অর্থনৈতিক অবস্থান বা সামাজিক পরিচিতি তার মতামতের ওজনকে বাড়িয়ে দেয় না। তবে বাস্তবতা এই নীতির সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বছরে এক বা দুইবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একজন প্রার্থী নির্বাচন করার যে গণতন্ত্র আমরা চর্চা করি তা প্রকৃত ক্ষমতার মঞ্চে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে সীমাবদ্ধ করে। অন্যদিকে, রকফেলার পরিবারের মতো বিশাল সম্পদশালী গোষ্ঠী কিংবা জর্জ সোরোসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের বিশাল অর্থবিত্তের মাধ্যমে রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে দৃশ্যমান প্রভাব বিস্তার করেন। এই ব্যবস্থার বৈপরীত্য গভীরতর। সাধারণ নাগরিকের ভোট একটি প্রতীকী কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এই প্রভাবশালীরা অর্থের জোরে তাদের ইচ্ছা ও স্বার্থকে বাস্তবায়নের শক্তিশালী উপায় পেয়ে যান। এ ধরনের অসম ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ বলা যায় কি? যেখানে অর্থই ক্ষমতার মুখ্য নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্তর্নিহিত সুষমতা আর কতটুকু টিকে থাকে—এ প্রশ্ন আমাদের ভাবিয়ে তোলে। প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এই বৈষম্যের সমাধানই হতে পারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পুঁজিবাদ প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চাকে সামনে আনতে চায় না, কারণ এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোটের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের হাতে কেন্দ্রীভূত সম্পদের ওপর হুমকি তৈরি করে। আনুষ্ঠানিক গণতন্ত্রের কাঠামোতে সার্বজনীন ভোটাধিকার বা নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকলেও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য এগুলোকে দুর্বল রাখা। কারণ, নিয়োগকর্তারা উৎপাদন, উদ্বৃত্ত মূল্য এবং সেই উদ্বৃত্ত মূল্য কীভাবে বিতরণ হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। পুঁজিবাদী নেতাদের জন্য গণতন্ত্র একটি কথার কথা—আদতে তারা যা বলে, তা তাদের কাজের সঙ্গে মেলে না। প্রকৃত গণতন্ত্র কেবলমাত্র তখনই সম্ভব, যখন সকলের মতামত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সমানভাবে প্রতিফলিত হবে।

অনুবাদঃ খায়রুল হাসান। 

লেখকবৃন্দ

অধ্যাপক উলফ একজন প্রখ্যাত মার্কিন মার্ক্সবাদী অর্থনীতিবিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের (অ্যামহার্স্ট) ইমেরিটাস অধ্যাপক। উলফের সাপ্তাহিক শো, "ইকোনমিক আপডেট," ১০০টিরও বেশি রেডিও স্টেশন দ্বারা সম্প্রচারিত এবং ফ্রি স্পিচ টিভির মাধ্যমে ৫৫ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছায়। ডেমোক্র্যাসি অ্যাট ওয়ার্কের সাথে তার তিনটি সাম্প্রতিক বইঃ The Sickness Is the System: When Capitalism Fails to...

খায়রুল হাসান জাহিন ক্রিমসন থিওরির  উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থায় তরুণ গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তার আগ্রহের বিষয় স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফর্মেশন, ইকোলজিক্যাল ইকোনমিক্স।

প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যার জন্য নিচের শব্দগুলোতে ক্লিক করুন

Scroll to Top