পুঁজিবাদ কি দারিদ্র্য দূর করতে পারে?

রিচার্ড উলফ

অধ্যাপক উলফ একজন প্রখ্যাত মার্কিন মার্ক্সবাদী অর্থনীতিবিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের (অ্যামহার্স্ট) ইমেরিটাস অধ্যাপক। উলফের সাপ্তাহিক শো, "ইকোনমিক আপডেট," ১০০টিরও বেশি রেডিও স্টেশন দ্বারা সম্প্রচারিত এবং ফ্রি স্পিচ টিভির মাধ্যমে ৫৫ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছায়। ডেমোক্র্যাসি অ্যাট ওয়ার্কের সাথে তার তিনটি সাম্প্রতিক বইঃ The Sickness Is the System: When Capitalism Fails to Save Us From Pandemics or Itself, Understanding Marxism, এবং Understanding Socialism।

পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একেবারে শুরুর দিন থেকেই তার সমালোচক ও প্রশংসক উভয় শ্রেণিরই জন্ম দিতে পেরেছে। কারণ অনেকেই এ ব্যবস্থায় নিপীড়িত বোধ করেছেন, আবার অনেকেই মনে করেছেন এটি তাদের জন্য আশীর্বাদ। তাই একদিকে নিপীড়িত ও সমালোচকেরা যেমন ব্যখ্যা-বিশ্লেষণ করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন, অন্যদিকে সুবিধাভোগী ও প্রশংসকেরা এ ব্যবস্থাকে সমর্থনের জন্য বিকল্প বক্তব্যও তৈরি করেছেন।

সমালোচকদের মোকাবিলা করতে এবং পুঁজিবাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরির জন্য নির্দিষ্ট ধাঁচের কিছু যুক্তি খুব কার্যকর হয়েছে। যেমন পুঁজিবাদ সমৃদ্ধি এনেছে এবং দারিদ্র্য কমিয়েছে–এমন একটি বিশ্বাস খুব প্রচলিত রয়েছে। ধীরে ধীরে এমন যুক্তিগুলো পুঁজিবাদের জন্য সহায়ক মিথ বা প্রচলিত বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে।

পুঁজিপতি ও তাঁদের প্রধান সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে একটি যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, পুঁজিবাদ সম্পদ সৃষ্টির জন্য এক অনন্য ইঞ্জিন। অ্যাডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকার্ডোর মতো পুঁজিবাদের প্রাথমিক প্রবক্তাদের পাশাপাশি কার্ল মার্কসের এর প্রাথমিক সমালোচকেরাও, এই সত্যকে স্বীকার করেছেন যে পুঁজিবাদ এমন একটি ব্যবস্থা, যা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য নির্মিত।
বাজারে চলমান প্রতিযোগিতার কারণে অধিকাংশ সময় শুধু টিকে থাকার জন্য পুঁজিবাদী বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যবসার পরিসর বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া পুঁজিবাদ এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, স্বাভাবিকভাবেই যার ঝোঁক থাকে শুধু সম্পদ সৃষ্টির দিকে। তবে শুধু পুঁজিবাদেই সম্পদের সৃষ্টি হয় এমনটাও সত্যি নয়। পুঁজিবাদই সম্পদ সৃষ্টি করে বা অন্য যেকোনো ব্যবস্থার তুলনায় এটি বেশি কার্যকর—প্রচলিত এমন ধারণাটি মিথ।

এখন কথা হলো, আর কী কী উপাদান রয়েছে যা সম্পদ সৃষ্টি করতে পারে? আসলে সম্পদ সৃষ্টির জন্য আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদী, সামন্ততান্ত্রিক, দাসপ্রথাভিত্তিক বা সমাজতান্ত্রিক যা-ই হোক না কেন,
শুধু অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এককভাবে সম্পদ সৃষ্টি করতে পারে না। ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, সম্পদ সৃষ্টি নির্ভর করে বিভিন্ন রকম পরিস্থিতির উপর (যেমন কাঁচামাল, আবহাওয়া, উদ্ভাবন ইত্যাদি), যা নির্ধারণ করে সম্পদ কীভাবে এবং কত দ্রুত সৃষ্টি হবে। নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পাশাপাশি এই উপাদানগুলোও সম্পদ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর, অনেকে বলেছিলেন যে পুঁজিবাদ তার একমাত্র প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী—সমাজতন্ত্রকে ‘পরাজিত’ করেছে এবং এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, পুঁজিবাদই সম্পদ সৃষ্টির জন্য সর্বোত্তম পন্থা। তখন এমনটাও দাবি করা হয়েছিল যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে সমাজতন্ত্রের ইতিহাস শেষ হয়ে গেছে এবং পুঁজিবাদের চেয়ে উন্নত কোনো ব্যবস্থা কল্পনা করা বা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তবে এখানে পুঁজিবাদ সমৃদ্ধি এনেছে এবং দারিদ্র্য কমিয়েছে বলে যে ধারণাটি প্রচলিত রয়েছে, সেই ধারণাটির মিথ হিসেবেই ব্যবহার হয়েছে সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক শতক ধরে, বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদ প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদের সৃষ্টি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু শুধু এই যুক্তিতেই এটা প্রমাণ হয় না যে, এই সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে একমাত্র কারণ ছিল পুঁজিবাদ।

হতে পারে, শুধু পুঁজিবাদের কারণেই নয় বরং অন্য কোনো কারণেও সম্পদের বৃদ্ধি ঘটেছিল। এমনকি অন্য কোনো ব্যবস্থার অধীনে এই বৃদ্ধির হার হয়ত আরও দ্রুত হতে পারত। এই সম্ভাবনার সমর্থনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ রয়েছে। প্রথমটি হলো, বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল (GDP এর ভিত্তিতে)। দ্বিতীয়টি হলো, একবিংশ শতাব্দীতে এ পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত সম্পদের বৃদ্ধি ঘটেছে চীনে। এখানে যে কথাটা উল্লেখ করা উচিত, সেটা হলো, এই দুটি সমাজই পুঁজিবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং নিজেদের গর্বের সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও একটি মিথ বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে, সেটি হলো গত ২০০ থেকে ৩০০ বছরে অসংখ্য মিলিয়ন মানুষের দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য পুঁজিবাদের বিশেষ কৃতিত্ব পাওয়া উচিত। ওই গল্পে বলা হয়, পুঁজিবাদের কারণে যে সম্পদ তৈরি হয়েছে, সেই সম্পদের মাধ্যমেই উন্নত খাদ্য, মজুরি, কাজের পরিবেশ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এবং এর মাধ্যমেই পুঁজিবাদ সবাইকে একটি উন্নত জীবন ব্যবস্থা দিয়েছে। আরও বলা হয়ে থাকে যে, পুঁজিবাদ নাকি অতি দরিদ্রদের অনেক অনেক উপহার দিয়েছে এবং এই অসাধারণ সামাজিক অবদানের জন্য পুঁজিবাদ অকুণ্ঠ আমাদের প্রশংসার যোগ্য।

‘পুঁজিবাদই সম্পদ সৃষ্টি করে’ বলে যে মিথের কথা আগের অনুচ্ছেদগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে এই মিথের জন্য সমস্যাগুলোও সেই মিথের মতো। বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের বিস্তারকালে লক্ষ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছিল—শুধু এই যুক্তি দিয়েই এমনটা প্রমাণিত হয় না যে, পুঁজিবাদই এত মানুষের অবস্থা পরিবর্তনের একমাত্র কারণ। অন্য বিকল্প ব্যবস্থাও থাকতে পারে, যা একই সময়ে বা আরও দ্রুত অনেক বেশি মানুষের জন্য দারিদ্র্য থেকে মুক্তি নিশ্চিত করতে পারত, কারণ সেখানে উৎপাদন ও বণ্টন পদ্ধতি আলাদা ভাবে আয়োজন করেছিল।

পুঁজিবাদের মুনাফা কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বাধাগ্রস্ত করে, এতে পণ্যের দামও বাড়ে এবং সর্বোপরি মুনাফাও বাড়ে। তাই মুনাফার জন্য কাজ করা ব্যবসাগুলোর পেটেন্ট ও ট্রেডমার্কগুলো কার্যকরভাবে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সরবরাহে বিলম্ব ঘটায়। আমরা জানি না, পুঁজিবাদের প্রণোদনার প্রভাবগুলো পণ্য সরবরাহে বিলম্বের প্রভাবগুলোকে অতিক্রম করে কিনা। এখন এই যে দাবি করা হয়, সার্বিকভাবে পুঁজিবাদ অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে, বিলম্বিত করে না, সেটা একটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির দাবি। পুঁজিবাদসহ ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিজের সুবিধামতো ভিন্নভাবে ও ভিন্ন গতিতে বিকাশকে প্রচার করে এবং বিকাশের গতিকে বিলম্বিতও করে।

পুঁজিপতি ও তাদের সমর্থকেরা দারিদ্র্য কমানো বা নির্মূল করার জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রায়ই বিরোধিতা করেন। শুধু তাই না, তারা বহু বছর ধরে ন্যূনতম মজুরি আইন প্রণয়ন ঠেকাতেও নানা রকমের বাধা দিয়েছেন। এখন এসব আইন পাস হওয়ার পরও ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছেন (যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৯ সাল থেকে হয়ে আসছে)। প্রায় একইভাবে পুঁজিপতিরা শিশু শ্রম নিষিদ্ধ বা সীমিত করার আইন, কর্মদিবসের দৈর্ঘ্য কমানোর ব্যবস্থা, বেকার ভাতা দেওয়া, সরকারি পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা, জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নারীসহ বিভিন্ন বর্ণের মানুষের বিরুদ্ধে লিঙ্গ ও বর্ণ বৈষম্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, বা সার্বজনীন মৌলিক আয়ের ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।
তারা প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা, পেশাগত সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনামূল্যে সার্বজনীন শিক্ষার বিরোধিতা করেছেন। পুঁজিপতিরা গত ১৫০ বছর ধরে শ্রমিক সংগঠনের বিরোধিতা করছেন এবং বৃহৎ সংখ্যক শ্রমিকদের জন্য যৌথ দর-কষাকষি সীমিত করেছেন। তারা সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিস্ট, এবং অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিরোধিতা করেছেন, যেগুলো দরিদ্রদের সংগঠিত করে দারিদ্র্য নিরসনের দাবি তুলে ধরে।

আসল সত্য হলো এই যে, যতটা দারিদ্র্য হ্রাস করা গেছে, তা পুঁজিপতিদের বিরোধিতার পরও সম্ভব হয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য পুঁজিপতি ও পুঁজিবাদকে কৃতিত্ব দেওয়া মানে সত্যকে উল্টে দেওয়া। এই যে পুঁজিপতিরা এমন কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে যে
একমাত্র তাদের চেষ্টার কারণে দারিদ্র্য কমানোর গেছে, সেটা করে কারণ তারা মনে করে যে, পুঁজিবাদের মধ্যে থেকেই দারিদ্র্য মোকাবিলার ইতিহাস মানুষ হয়ত জানে না।

তবে পুঁজিবাদ দারিদ্র্য দূর করেছে বলে সম্প্রতি যে দাবিগুলো করা হচ্ছে, সেগুলো করা হচ্ছে কিছু তথ্যের ভুল ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যাদের দৈনিক আয় ১.৯৬ ডলারের নিচে তাদের ‘অতি দরিদ্র’ বলে সংজ্ঞায়িত করেছিল জাতিসংঘ। এদিকে গত শতাব্দীতে দৈনিক আয় ১.৯৬ ডলারের নিচে বেঁচে থাকা দরিদ্র মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখানে চীন নামের দেশটির কথা বলে রাখা দরকার, জনসংখ্যার দিক থেকে যে দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড়। গত শতকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা সাফল্য দেখিয়েছে এই দেশ। চীনের এই বিশাল অবদান বৈশ্বিক দারিদ্র্য হ্রাসের মোট পরিসংখ্যানে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই ক্ষেত্রে চীনের এই বিশাল প্রভাবের কারণেই কেউ কেউ এটাও বলতে পারেন যে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বৈশ্বিক দারিদ্র্য কমার জন্য সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দায়ী যা পুঁজিবাদী নয় বরং সমাজতান্ত্রিক।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা হয়, ব্যবস্থাটি যে সমাজে বিদ্যমান, সেই সমাজে সেবা কতটা ভালোভাবে বা খারাপভাবে বিতরণ করা হয় তার ভিত্তিতে। কীভাবে পণ্য ও সেবার উৎপাদন করা হয় এবং তা বিতরণ করা হয় তার ভিত্তিতেই একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা জনগণের জন্য স্বাস্থ্য,পর্যাপ্ত খাবার, পোশাক, আশ্রয়, পরিবহণ, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং কর্মঘণ্টায় ভারসাম্যের জন্য প্রয়োজনীয় অবসরের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো কতটা পূরণ করতে পারে তা নির্ধারিত হয়। এই অর্থে আধুনিক পুঁজিবাদ কতটা ভালো পারফর্ম করছে?

আধুনিক পুঁজিবাদ এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে মাত্র ১০০ ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে এই পৃথিবীর নিম্নতম অর্ধেক জনসংখ্যার (৩.৫ বিলিয়নের বেশি মানুষ) মোট সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক। পৃথিবীর যাবতীয় সব সম্পদের ব্যবহার নিয়ে এই ১০০ ধনীতম ব্যক্তির আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব অন্তত ৩.৫ বিলিয়ন দরিদ্র মানুষের আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাবের সমান। তাই দরিদ্রেরা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগেও আগেভাগেই মারা যায়, এমন রোগে ভোগে যার চিকিৎসা আমরা জানি, এখনো ক্ষুধায় কষ্ট পায় যদিও আমরা পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় যখন আমাদের প্রচুর শিক্ষক রয়েছে এবং তাদের আরও অনেক অনেক করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দারিদ্র্য হ্রাসের চেহারা কি এভাবেই দেখা উচিত?

তাই দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য পুঁজিবাদকে যে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, তা আরো একটা মিথ ছাড়া কিছু না। আসলে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব হয়েছে, দরিদ্র মানুষের সংগ্রামের মাধ্যমে কারণেই,আর সে সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে পুঁজিবাদ এবং পুঁজিপতিদের তৈরি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। আর দরিদ্রদের এই সংগ্রামে প্রায়ই সহায়তা করেছে শ্রমজীবী শ্রেণির লড়াকু সংগঠনগুলো, যাদের অনেকেই সরাসরিই বিরোধিতা করেন পুঁজিবাদের।

অনুবাদঃ তুষার পাল
কৃতজ্ঞতাঃ মিডওয়েস্টার্ন মার্ক্স

লেখকবৃন্দ

অধ্যাপক উলফ একজন প্রখ্যাত মার্কিন মার্ক্সবাদী অর্থনীতিবিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের (অ্যামহার্স্ট) ইমেরিটাস অধ্যাপক। উলফের সাপ্তাহিক শো, "ইকোনমিক আপডেট," ১০০টিরও বেশি রেডিও স্টেশন দ্বারা সম্প্রচারিত এবং ফ্রি স্পিচ টিভির মাধ্যমে ৫৫ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছায়। ডেমোক্র্যাসি অ্যাট ওয়ার্কের সাথে তার তিনটি সাম্প্রতিক বইঃ The Sickness Is the System: When Capitalism Fails to...

তরুন লেখক, কবি ও গবেষক।

প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যার জন্য নিচের শব্দগুলোতে ক্লিক করুন

Scroll to Top